• অর্থাভাবে অনিশ্চিত অনামিকার ক্যানাডা-যাত্রা, চিন্তায় ঘুম নেই চোখে
    এই সময় | ২০ জুলাই ২০২৬
  • সুশান্ত বণিক, আসানসোল

    সদ্যসমাপ্ত এশিয়া-প্যাসিফিক আফ্রিকা ভারোত্তোলন প্রতিযোযোগিতায় দেশের হয়ে রুপো জিতে ফিরেছেন আসানসোলের মেয়ে অনামিকা মুখোপাধ্যায়। সেপ্টেম্বরে তিনি ক্যানাডায় হতে যাওয়া কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায় ডাক পেয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কার দ্বারস্থ হলে, কী ভাবে স্বপ্ন পূরণ হবে, তা নিয়ে চিন্তায় ঘুম উড়েছে অনামিকার।

    সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় এশিয়া-প্যাসিফিক আফ্রিকা ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতা হয়। সেখানে ৩২০ কেজি ওজন তুলে দ্বিতীয় হন আসানসোলের আসানসোল মহিশীলা গ্রামের বাসিন্দা অনামিকা। এই মাসের প্রথম সপ্তাহে পদক নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন অনামিকা। বাড়িতে ফেরার কিছু দিন পরে খবর পান, ক্যানাডায় হতে যাওয়া কমনওয়েলথ ভারোত্তোলনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন, যা হবে সেপ্টেম্বর মাসে। এমন খবরে খুশি হওয়াই স্বাভাবিক, কিন্তু সেই আনন্দের অনুভূতি উবে যেতেও বেশি সময় লাগেনি।

    ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে কমপক্ষে চার লক্ষ টাকা খরচ হবে এবং এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তাঁকেই জোগাড় করতে হবে। অনামিকা বলছেন, 'দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। অন্যের সাহায্যে সেই সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলাম। এ বার কার কাছে হাত পাতব?'

    নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান অনামিকা। সম্প্রতি আসানসোলের একটি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর পাশ করেছেন। বাড়িতে মা, বাবা-সহ চার জন রয়েছেন। বাবা সুকুমার মুখোপাধ্যায় এক বেসরকারি সংস্থায় অল্প বেতনের নিরাপত্তাকর্মী। দিন এনে দিন খাওয়া এই সংসারে সেই সামান্য উপার্জনে ক্যানাডায় যাওয়া কোনও অবস্থায় সম্ভব নয়। অথচ কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ সচরাচর আসে না।

    ভবিষ্যতে সেই সুযোগ আর আসবে কি না, তা-ও নিশ্চিত নয়। তা হলে কি ক্যানাডা যাওয়ার ইচ্ছার অকালমৃত্যু ঘটতে চলেছে? আক্ষেপের সুরে অনামিকা বলেন, 'কয়েক জনের কাছে আবেদন করেছি, কিন্তু ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি না। যদি কোনও সরকারি অথবা বেসরকারি সংস্থার অনুদান পেতাম, তা হলে স্বপ্ন পূরণ হতো।'

    ভারোত্তোলন ইভেন্টে অনামিকার ঝুলিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি রয়েছে। তিনি ঝাড়খণ্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। পাঁচ বার রাজ্য প্রতিযোগিতায় সোনা জিতেছেন। ২০২৪-এ জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে রুপো জয়। ২০২৫-এ ফেডারেশন প্রতিযোগিতায় সোনা জয়। তার সুবাদেই ডাক পেয়েছিলেন এশিয়া-প্যাসিফিক প্রতিযোগিতায় যাওয়ার। অনামিকার বাবা বললেন, 'মেয়ের স্বপ্ন সফল হোক, এই সাধ তো রয়েইছে, কিন্তু পূরণ করার সাধ্য নেই।' মা জলি মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, 'বাড়িতে এমন কোনও মূল্যবান সামগ্রীও নেই, যা বিক্রি করে মেয়ের জন্য অর্থ জোগাড় করব।'

  • Link to this news (এই সময়)