• কংগ্রেসের ‘কাঠগড়ায়’ মণীশ গুপ্ত! ২১ জুলাই মঞ্চের পাশে গ্যালারিতে মমতার ছবিও
    প্রতিদিন | ২০ জুলাই ২০২৬
  • সচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে মহাকরণ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেসনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেসময়কার বাম সরকারের স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তর নির্দেশে ধর্মতলা চত্বরে কংগ্রেস কর্মীদের উপর পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনায় শহিদ হন ১৩ জন। জখম হন বহু। আন্দোলনের সেই ইতিহাসকে স্মরণ করে ‘প্রকৃত অর্থে’ শহিদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। তাদের দাবি, সেদিনের ‘ভিলেন’ মণীশ গুপ্তর বিচার চাই, দোষীদের সাজা চাই। তার জন্য মঞ্চের পাশেই একটি ‘কাঠগড়া’ বানানো হচ্ছে। সেখানে মণীশ গুপ্তর একটি কাটআউট রেখে কর্মীদের কাছে প্রশ্ন তোলা হবে, সেদিনের ঘটনার বিচার কি চান না? প্রদেশ নেতৃত্বের দাবি, শহিদদের একাধিক পরিবারের সদস্য মঞ্চে থাকবেন। ঘটনার প্রকৃত তদন্তের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠিও পাঠিয়েছে প্রদেশ নেতৃত্ব।

    প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে এই শহিদ তর্পণ কর্মসূচি পালনের সম্পূর্ণ আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন অমিতাভ চক্রবর্তী, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়রা। আশুতোষই এই কর্মসূচির জন্য সেনাবাহিনীর কাছে দলের তরফে আবেদন করেন। অমিতাভ বা আশুতোষদের বক্তব্য, সিপিএম আমলে তো বটেই গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারও দোষীদের সাজার কোনও উদ্যোগ নেয়নি। অথচ এই ২১ জুলাইকে সামনে রেখে বিরাট কর্মসূচি করে গিয়েছে বছরের পর বছর। যে কমিশন তৈরি হয়েছিল তার রিপোর্ট সামনে এলেও, দোষীদের সাজা হয়নি। সব ধামাচাপা পড়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সেই ঘটনায় তাই বিচারের দাবি প্রদেশ কংগ্রেসের।

    আন্দোলনের নানা ছবি দিয়ে মঞ্চের পাশে গ্যালারি হবে। তাতে থাকবে মমতার সেই দিনের ছবিও। ইতিমধ্যে এ নিয়ে অমিতাভ চক্রবর্তীরা নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে যুব নেতা হিসাবে বারবার দায়িত্ব নিয়ে কংগ্রেসের তরফে কর্মসূচি করেছেন অমিতাভরা। তিনি ইতিমধ্যে বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই আন্দোলনের সাক্ষ্য বহন করেন। সেই ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে। সেই ইতিহাসকে অগ্রাহ্য করা যায় না।

    আশুতোষের বক্তব্য, ‘‘আন্দোলন ইতিহাস যেমন অস্বীকার করা যায় না, তেমনই তাঁরই নেতৃত্বে যে কংগ্রেসের কর্মীদের উপর সন্ত্রাস চলেছে সেটাও সত্য। কর্মীদের আমরা সেটাই বলছি। এর মধ্যেই মণীশ গুপ্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাঁর দলীয় ইস্তফা পাঠিয়েছেন।” কংগ্রেসের বক্তব্য, এই মণীশ গুপ্তই গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। পঁচাত্তর রাউন্ড গুলি চালিয়ে কংগ্রেস কর্মীদের হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু সাজা না দিয়ে মমতা ক্ষমতায় এসে তাঁকেই মন্ত্রী করেছিলেন। এটা শহিদদের প্রতি অবিচার। শহিদদের ঠকিয়েছে মমতার সরকার। এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই এর বিচার চাওয়া হবে।

    রবিবার শহিদ মিনারে মঞ্চ প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন রাজ্যের পর্যবেক্ষক প্রকাশ যোশী, প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, অমিতাভ চক্রবর্তী, আশুতোষরা। মঞ্চ দুটো ভাগে তৈরি হচ্ছে। মূল মঞ্চে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে থাকবেন শহিদ পরিবার। দ্বিতীয় মঞ্চে থাকবেন জেলা নেতৃত্ব। স্টেজের ব্যাকড্রপে যে পোস্টার থাকবে, তাতে কারও ছবি থাকছে না। শুধু লেখা থাকবে – ‘একুশে জুলাই শহিদ স্মরণ’ কথাটি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)