সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজধানীতে প্রবল উত্তেজনা ছড়াল। পুলিশের অনুমতি না-মিললেও ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি নিয়ে অনড় ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। অঝোর ধারায় বৃষ্টির মধ্যেই দিল্লির যন্তর মন্তর চত্বরে জমায়েত শুরু হতেই অ্যাকশনে পুলিশ। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক লাঠিচার্জের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল বিভিন্ন ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, হাতাহাতি ও লাঠিচার্জের দৃশ্য। যদিও এক্স হ্যান্ডলে বিবৃতি দিয়ে পুলিশের দাবি, এমন কোনও ঘটনা ঘটেইনি।
সোমবার সাতসকালেই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ঘিরে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। সংসদমুখী মিছিল আটকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পুলিশের বক্তব্য, অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তা রুখতে কড়া পদক্ষেপ করে পুলিশ। তবে এক্স হ্যান্ডলে সংবাদ মাধ্যমের কিছু রিপোর্টকে ভুয়ো বলে উল্লেখ করে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশের তরফে বিক্ষিপ্ত হিংসা বা আটক করার মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি।
এখানেই শেষ নয়, দিল্লি পুলিশের আরও দাবি, ‘বিক্ষোভ কর্মসূচি অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে, কোনও গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ফাঁদে পা না দিতে। যন্তর মন্তর ও তার আশপাশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিল্লি পুলিশকে সহযোগিতা করুন।’
প্রতিবাদকারীরা সর্বভারতীয় NEET পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশ আগেই স্পষ্ট জানিয়েছিল, এই মিছিলের জন্য কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সোমবার সকাল থেকেই কয়েক হাজার আন্দোলনকারী যন্তর মন্তরে জড়ো হন। পরে তাঁরা সংসদের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ ব্যারিকেড করে তাঁদের আটকে দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তারক্ষীরা লাঠিচার্জ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-সহ বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল। দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, বিশৃঙ্খলা রুখতে ৫ হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়।
এদিকে CJP আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। সংগঠনের বার্তায় বলা হয়, ‘যেখানেই আটকে দেওয়া হোক না কেন, শান্ত থাকুন। শান্তি ও ভালোবাসার মাধ্যমেই এই আন্দোলন সফল হবে।’
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে রবিবারই জানানো হয়েছিল যে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নিউ দিল্লি জেলায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত ও অনুমতিহীন মিছিল নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট শর্তে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি রয়েছে। সংসদ অভিমুখে কোনও মিছিলের জন্য আবেদনও করা হয়নি এবং অনুমতিও দেওয়া হয়নি বলে পুলিশ জানায়।
সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর কারণে রাজধানীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। সংসদ ভবন এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, ব্যারিকেড, র্যাফ মোতায়েন করা হয়। মধ্য দিল্লির কয়েকটি এলাকায় মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। অনশন চলাকালীন শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও তাঁর অনুপস্থিতিতেও ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিজিৎ দীপকে এবং ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো।