একদিকে চায়ের কেটলি থেকে ধোঁয়া উঠছে। অন্য দিকে দোকানের সামনে লেজ নাড়িয়ে বসে রয়েছে কয়েকটি পথকুকুর। কেউ খাবারের অপেক্ষায়, কেউ আবার নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে। কোনও প্রত্যাশা ছাড়াই দিনের পর দিন তাদের সেবা করে চলেছেন পাহাড়ি গ্রামের এক সাধারণ মহিলা— নীতু তামাং।
মিরিক পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউলে গ্রামের বাসিন্দা নীতু তামাং। আলে খেলার মাঠের কাছে একটি ছোট্ট চা-জলখাবারের দোকান চালিয়েই চলে তাঁর সংসার। কিন্তু জীবিকার ব্যস্ততার মাঝেও পথকুকুরদের জন্য আলাদা সময় বের করে নেন তিনি। প্রতিদিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের খাবার দেন, অসুস্থ হলে যত্ন নেন। কোনও সংস্থা বা সরকারি সাহায্য নয়, শুধুই মানবিকতা আর প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই কাজ করে চলেছেন নীতু।
নীতু জানান, ‘মিরিক–শিলিগুড়ি মেন রোডের এই এলাকায় প্রায়ই রাতের অন্ধকারে গাড়িতে করে কুকুর এনে ফেলে রেখে যান অনেকেই। কখনও অসুস্থ কুকুর, কখনও সদ্য বাচ্চা দেওয়া কুকুর, আবার কখনও ছোট ছোট কুকুরছানা। নতুন জায়গায় এসে তারা খাবারের খোঁজে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। অনেক সময় গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়, এমনকী প্রাণও হারায়।’
বার বার এমন দৃশ্য দেখে আর চুপ করে থাকতে পারেননি নীতু। তাই দোকানের আশপাশে ঘুরে বেড়ানো কুকুরগুলোর দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন তিনি। দোকানে যা রান্না হয়, সেখান থেকেই কিছু খাবার তাদের জন্য সরিয়ে রাখেন। কয়েকটি কুকুরকে নিজেই লালন-পালন করছেন। আরও কিছু কুকুর আশপাশের এসএসবি (সশস্ত্র সীমা বল) ক্যাম্পে আশ্রয় পেয়েছে।
নীতুর কথায়, সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় ছোট ছোট কুকুরছানাদের দেখে। অনেকেই তাদের রাস্তায় ফেলে দিয়ে চলে যান। সেই কুকুরছানাদের অনেকেই এখন বড় হয়ে তাঁর দোকানের আশপাশেই থাকে। নীতু অনুরোধ করে আরও বলেন, ‘যদি কেউ কুকুর পালন করতে না পারেন, তা হলে তাঁদের এ ভাবে রাস্তায় ফেলে দেবেন না, ওদেরও প্রাণ আছে, ওদেরও বাঁচার অধিকার আছে।’
তাঁর মতে, বিষয়টি শুধু প্রাণীদের দুর্দশার নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বহু পড়ুয়া যাতায়াত করে। পাশেই রয়েছে আলে খেলার মাঠ, যেখানে নিয়মিত খেলতে আসে ছোট ছোট শিশুরা। এমন জায়গায় আক্রমণাত্মক কুকুর থাকলে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও থেকে যায়।
তাই প্রশাসনের কাছেও আবেদন জানিয়েছেন নীতু তামাং। তাঁর দাবি, পথকুকুরদের সঠিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি যাঁরা ইচ্ছাকৃত ভাবে রাতের অন্ধকারে কুকুর এনে রাস্তায় ফেলে যান, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
১. নীতু তামাং কে?
নীতু তামাং মিরিকের কাউলে গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আলে খেলার মাঠের কাছে একটি ছোট চা-জলখাবারের দোকান চালান এবং পথকুকুরদের সেবা-যত্ন করেন।
২. কী ভাবে পথকুকুরদের সাহায্য করেন নীতু?
নিজের দোকানের খাবার থেকে প্রতিদিন কুকুরদের জন্য খাবার রাখেন, অসুস্থ কুকুরদের যত্ন নেন এবং কয়েকটি কুকুরকে নিজেই লালন-পালন করছেন।
৩. কেন এই উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি?
মিরিক–শিলিগুড়ি রোডে নিয়মিত পরিত্যক্ত কুকুর ও কুকুরছানা ফেলে যাওয়ার ঘটনা দেখে তিনি তাদের দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
৪. এই সমস্যার কারণে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে?
রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো পরিত্যক্ত ও আক্রমণাত্মক কুকুরের কারণে পথচারী, পড়ুয়া এবং আলে খেলার মাঠে খেলতে আসা শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
৫. প্রশাসনের কাছে নীতু তামাংয়ের দাবি কী?
পথকুকুরদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা এবং যারা রাতের অন্ধকারে কুকুর ফেলে যায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া।