এবার মমতার সঙ্গত্যাগ হুগলির প্রবীণ নেতা তপন দাশগুপ্তের, যোগ দিতে পারেন ঋতব্রতর দলে
বর্তমান | ২০ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়লেন হুগলির প্রবীণ নেতা তপন দাশগুপ্ত। রবিবার তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে নেত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। হুগলির সপ্তগ্রামের তিনবারের বিধায়ক, একদা অবিভক্ত হুগলির জেলার তৃণমূল সভাপতি তপনবাবুর দাবি, মানুষের কাছে এই দল বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। তাই তিনি আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল করতে চান না। তবে রাজনীতি ছাড়বেন না বলে মন্তব্য করলেও অন্য কোনো দলে বা ঋতব্রত-তৃণমূলে যাবেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি। তবে এদিনই ঋতব্রত-তৃণমূলের হুগলির জেলার সভাপতি সন্তোষ সিংয়ের (পাপ্পু) সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে বলে খবর। পরে সন্তোষ সিং বলেন, তপন দাশগুপ্তর মতো প্রবীণ নেতার পরামর্শ ও সহযোগিতা দলীয় কর্মীদের প্রয়োজন। তাই দাদার কাছে আশীর্বাদ চাইতে এসেছিলাম। তিনি ঠারেঠোরে বুঝিয়েছেন, তৃণমূল নেতৃত্ব তপনবাবুকে যোগ্য সম্মান দেয়নি।
তপন দাশগুপ্ত এদিন অবশ্য গতানুগতিক পথেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, দিদির উপর কোনো রাগ নেই। কিন্তু যাঁরা তাঁকে ব্যবহার করে দলটাকে শেষ করেছে, তাঁদের উপর আমি ক্ষিপ্ত। তাঁরা সকলেই ‘সর্বভারতীয়’ স্তরের নেতা। তপনবাবু বলেন, আইপ্যাক নামে একটি বস্তু ছিল। যা আসলে তোলাবাজি প্যাক। দলের সংকট নিয়ে নেত্রীকে আগেই সতর্ক করেছিলাম। তিনি কর্ণপাত করেননি। আমি রাজনীতি ছাড়ছি না, কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। এ নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের হুগলি জেলার সভাপতি তথা চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, এখনই কোনো মন্তব্য করব না।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, রাজ্যে পালাবদলের পরই দল ছেড়েছিলেন প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। পরবর্তীতে তিনি ঋতব্রত-তৃণমূলের পদাধিকারী হয়ে যান। তপনবাবু সেই পথেই পা বাড়ান কি না, সেটাই দেখার।