• ধর্ষণের মামলায় ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট, নির্দেশ প্রতিটি থানাকে
    বর্তমান | ২০ জুলাই ২০২৬
  • শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: ধর্ষণের মামলার তদন্তে আর দীর্ঘসূত্রিতা নয়। দ্রুত তদন্ত শেষ করতে কড়া বার্তা দিলেন বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি। তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা দিতে হবে। পুলিশের দাবি, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হল, যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নির্যাতিতার পরিবারকে ‘জাস্টিস’ দেওয়া। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্ষণের মামলায় অনেক সময় তদন্ত দীর্ঘায়িত হয়। বিভিন্ন রিপোর্ট, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার কারণে চার্জশিট জমা দিতেও দেরি হয়। ফলে কমে যায় বিচারের গতি। বারাসত পুলিশ জেলায় মোট ১১টি থানা রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বারাসত মহিলা থানাও। নারী নির্যাতন এবং ধর্ষণের মামলার তদন্তে এই থানার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু মহিলা থানা নয়, জেলার প্রতিটি থানাকেই এই নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে। তদন্তকারী অফিসারদের শুরু থেকেই দ্রুত প্রমাণ সংগ্রহের উপর জোর দিতে হবে। নির্যাতিতার বয়ান, সাক্ষীদের বক্তব্য, চিকিৎসার নথি, ফরেনসিক রিপোর্ট— সব কিছু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করতে হবে। কোথাও যাতে অযথা দেরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার জে মার্সি বলেন, ‘দ্রুত চার্জশিট জমা পড়লে আদালতেও বিচার শুরু হতে সুবিধা হয়। নির্যাতিতাকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয় না। সেই সঙ্গে সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও কমে।’ তাঁর আরও বক্তব্য, ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর মামলায় দ্রুত তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। এতে শুধু বিচার ব্যবস্থার গতি বাড়ে না, মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি বাড়তি আস্থাও তৈরি হয়। অপরাধীদের কাছেও কঠোর বার্তা যায়। 

    আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানা গিয়েছে জেলা পুলিশ সূত্রে। আইনজীবীরাও মনে করছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে চার্জশিট জমা পড়লে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব। বিচার ব্যবস্থার উপর মানুষের ভরসা বাড়বে। প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। সেই বার্তা মাথায় রেখেই জেলা পুলিশে এই তৎপরতা বলে জানা গিয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)