• সংসদমুখী বিক্ষোভকারীদের উপর কাঁদানে গ্যাস চার্জ, অভিযানে যোগ দেওয়ার অনুমতি চেয়ে চিঠি ওয়াংচুকের
    এই সময় | ২০ জুলাই ২০২৬
  • কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে সংসদমুখী বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের রুখতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় দিল্লি পুলিশ। সংসদের সমস্ত গেট বন্ধ করে আরও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। এ দিকে সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনও অনুমতির বিক্ষোভকারীদের দেওয়া হয়নি।

    সংসদ ভবনের প্রবেশের গেটের প্রায় কাছাকাছি CJP-র আন্দোলনকারীরা। বিজয় চক থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে সংসদ ভবনের এই গেট। জলকামান, ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে সংসদ ভবন চত্বর। এই মুহূর্তে সংসদে ভবনের ভিতরে প্রধানমন্ত্রী-সহ সমস্ত ক্যাবিনেট মন্ত্রী উপস্থিত। বিরোধী দলনেতা-সহ অন্যান্য দলের সাংসদরা উপস্থিত রয়েছেন। বিজয় চকের মুখোমুখি সংসদ ভবনের এই লোহার গেটের ডানদিকে রাইসিনা হিলস অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি ভবন। এ ছাড়াও রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য মন্ত্রকের দপ্তর। একমাত্র সংবাদ মাধ্যম এবং নিরাপত্তারক্ষীরা সংসদ চলাকালীন এই বিজয় চক পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি পান। তার আগেই বিক্ষোভকারীদের রুখতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় দিল্লি পুলিশ। ব্যারিকেডও করে দেওয়া হয়। ব্যারিকেডে বাধা পেয়ে সেখানেই অবস্থান আন্দোলন শুরু করেছেন ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া বিক্ষোভকারীরা।

    অন্যদিকে, দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও আন্দোলন থেকে সরে আসতে নারাজ পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। সোমবার হাসপাতাল থেকেই তিনি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিন্টেনডেন্ট এবং সরকারের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখে জানান, তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি সুস্থ বোধ করছেন। তাই তাঁকে সাময়িকভাবে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়ে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান।

    চিঠিতে ওয়াংচুক লেখেন, ‘আমি এখন নিজেকে খুব ভালো অনুভব করছি। আমার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তাই আমাকে কয়েক ঘণ্টার জন্য হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। এর পরে আমি আবার হাসপাতালে ফিরে আসব।’

    ওয়াংচুক অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর থেকে তাঁর চলাফেরা, বক্তব্য রাখা এবং যোগাযোগের স্বাধীনতা সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলতে প্রস্তুত, তবে তাঁকে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত।

    হাসপাতাল থেকে পাঠানো বার্তায় ওয়াংচুক জানান, নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত পূরণ হলে তিনি দীর্ঘদিনের অনশন প্রত্যাহার করতে রাজি। তাঁর প্রধান দাবি, শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং NEET-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। এ ছাড়া সংসদের চলতি অধিবেশনে এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করারও দাবি জানান তিনি। সমাজকর্মীর দেওয়া অন্য শর্ত হলো, কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও প্রতিনিধিকে হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে দেখা করে বিক্ষোভকারীদের শর্ত পূরণের আশ্বাস দিতে হবে। অন্যদিকে, এ দিন সকালেই ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ওয়াংচুকের অনুরোধে অনশন প্রত্যাহার করেন। সোমবার ছিল তাঁর অনশনের তৃতীয় দিন।

    সোনম ওয়াংচুক বর্তমানে ছাত্র-যুবদের নেতৃত্বে চলা CJP (Cockroach Janta Party)-র ‘চলো সংসদ’ আন্দোলনের অন্যতম মুখ। হাসপাতাল থেকেই তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়ে এই আন্দোলনে শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘এটি ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের মতো একটি লড়াই, যার লক্ষ্য জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।’

    সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল হলেও তিনি এখনও চিকিৎসাধীন। দীর্ঘদিনের অনশনের কারণে তাঁর শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষ চিকিৎসা চলছে এবং চিকিৎসকদের একটি দল ২৪ ঘণ্টা তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছে। এ দিন সকালে তাঁকে সফদরজং হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরের অনুমতি চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো।

    আন্দোলনকারীরা তাদের বিভিন্ন দাবি, বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থা ও NEET-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে আলোচনা করতে চান।

    না। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আন্দোলনকারীদের জেপি নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি।

    সংসদের দিকে বিক্ষোভকারীদের অগ্রগতি রুখতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে, ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং সংসদ ভবনের চারপাশে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

    বিজয় চক সংলগ্ন সংসদ ভবনের প্রবেশদ্বারের কাছাকাছি ব্যারিকেডে তাঁদের আটকানো হয়। এরপর সেখানেই তাঁরা অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন।

    সংসদ ভবনকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে রাখা হয়। জলকামান, অতিরিক্ত পুলিশ এবং ব্যারিকেড মোতায়েন করা হয়। সংসদের সমস্ত গেটও বন্ধ রাখা হয়।

    ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য, বিরোধী দলনেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদরা সংসদের ভিতরে উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিন্টেনডেন্ট ও সরকারের কাছে চিঠি লিখে কয়েক ঘণ্টার জন্য হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি চেয়েছেন।

    চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন যে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি নিজেকে সুস্থ বোধ করছেন। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পরে আবার হাসপাতালে ফিরে আসবেন বলেও উল্লেখ করেছেন।

    আন্দোলনকারীরা শিক্ষাব্যবস্থা, NEET-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং অন্যান্য দাবি নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন।

    সংসদমুখী আন্দোলনকারীদের অগ্রগতি রুখতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে এবং সংসদ ভবনের সব গেট বন্ধ করে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

    তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা ও NEET-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি এবং সংসদে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা হলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত।

    চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। তবে দীর্ঘদিনের অনশনের কারণে তিনি এখনও চিকিৎসাধীন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)