বাংলায় বিজেপি সরকারের প্রতিষ্ঠা বাঙালির গর্ব যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে একেবারে দেশের রাজধানীতে পৌঁছে দিতে তৎপর দলের জনপ্রতিনিধিরা। তৃণমূল ছেড়ে সদ্যই বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন বাংলার তিনজন – সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক। সোমবার, সংসদে বাদল অধিবেশনের শুরুর দিন রাজ্যসভায় তাঁদের শপথ অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে খাঁটি বাঙালি রূপে দেখা গেল দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সুখেন্দুশেখরকে। পরে ঘি রঙা ধুতি, হালকা চিকনের কাজ করা পাঞ্জাবি। সংসদের উচ্চকক্ষে তিনি শপথ নিলেন বাংলায়। বিজেপির হয়ে রাজ্যসভায় প্রথম ইনিংসের শুরুতেই বুঝিয়ে দিলেন, বাঙালিয়ানাকে সঙ্গে নিয়েই কেন্দ্রের শাসকদলের সঙ্গে বাংলার উন্নয়নে কাজ করবেন।
৪ মে বাংলায় বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায়। ওইদিন ভোটের ফলপ্রকাশের পর সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির বঙ্গ বিজয়ে সেলিব্রেশন শুরু হয়ে গিয়েছিল দিল্লিতেও। ওইদিন মোদির পরনেও ছিল খাঁটি বাঙালি পোশাক। ভাষণের শুরুতে বাংলায় কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বাঙালি অস্মিতার প্রতি অকুণ্ঠ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছিলেন। তাঁর এই আচরণের নেপথ্যে অবশ্য অন্য এক কারণ ছিল। সদ্যবিদায়ী তৃণমূল সরকার যে বারবার বিজেপিকে বাঙালি বিদ্বেষী বলে প্রচার করছিলেন, তার একটা পরোক্ষ জবাব দেওয়া। সেদিন দিল্লিতে বিজেপির ওই সদর দপ্তর ঘিরে ভরপুর বাংলার আবহ ছিল।
কাট টু। ২০ জুলাই, সোমবার রাজ্যসভায় নতুন ইনিংস শুরু করা বর্ষীয়ান সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের পোশাকেও সেই খাঁটি বাঙালির ছোঁয়া। রাজ্যসভায় বাংলা উচ্চারণে শপথ নিলেন তিনি। একইসঙ্গে এদিন নতুন ইনিংস শুরু করলেন সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক। অবশ্য সংসদের উচ্চকক্ষে বাংলায় শপথ নেওয়া এই প্রথম নয়। এর আগে মার্চ মাসে বাংলার দুই নবনির্বাচিত সাংসদ – কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয়ও নিজেদের মাতৃভাষায় শপথবাক্য পাঠ করেছিলেন।