‘নেতা-কর্মীর অনৈতিক কাজ বরদাস্ত নয়’, শাহী নির্দেশের পরই কোর কমিটির বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত বিজেপির
প্রতিদিন | ২০ জুলাই ২০২৬
সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয় ও নিচুতলায় সংগঠনকে মজবুত করার পাশাপাশি সরকারের কাজের সুফলকে জনসাধারণের মধ্যে তুলে ধরার কাজ করতে হবে। অমিত শাহের এই নির্দেশের পরই রবিবার রাতে বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে দলের সংগঠন ও আগামী কর্মসূচি-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে, ক্ষমতায় রয়েছে বলে নেতা-কর্মীদের অনৈতিক কোনও কাজকেই বরদাস্ত করা হবে না। জেলাস্তরেও এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে। একইসঙ্গে হঠাৎ করে বিজেপি হয়ে যাওয়াদের থেকে দূরে থাকার বার্তাও দেওয়া হবে।
অমিত শাহ রাজ্য সফর সেরে দিল্লি রওনা হওয়ার পরই রবিবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাসভবনে বৈঠকে বসেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানে শুভেন্দু ছাড়াও ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল ও অমিত মালব্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক সংগঠন অমিতাভ চক্রবর্তী, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, শশী অগ্নিহোত্রী প্রমুখ। রাত পর্যন্ত বৈঠক চলে। সেখানেই দল কীভাবে কাজ করবে তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলে। ভোটে দল বিপুল জয় পেয়েছে বলে বিজেপির কোনও নেতা বা কর্মী কোনও হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করলে দল কঠোর পদক্ষেপ করবে। ক্ষমতায় আসার সুযোগ নিয়ে কেউ যদি তোলাবাজি করেন বা সিন্ডিকেট তৈরির চেষ্টা করেন, তা হলেও দল কড়া ব্যবস্থা নেবে। এটা সমস্তস্তরের নেতা-কর্মীদের বলে দেওয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে খবর।
প্রসঙ্গত, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য একাধিকবার বলেছেন, “আমরা এ রাজ্যের ভোট-সংস্কৃতি বদলের কথা বলেছি। তাই মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন। ভোটে জেতার পরে আমরাও তৃণমূলের সংস্কৃতিতেই গা ভাসাতে পারি না।” বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক কৌশল ও আসন্ন দিনগুলোর সাংগঠনিক রূপরেখা নির্ধারণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে আলোচনার অন্যতম বিষয়বস্তু ছিল, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং সাংগঠনিক কাজের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট সীমারেখা তৈরি করে কীভাবে দুই মাধ্যমের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় বজায় রাখা যায়। বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে সুনীল বনশল, অমিত মালব্য, শমীক ভট্টাচার্য শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার-সহ দলীয় নেতৃত্ব।