: হাওড়ায় রেশন সামগ্রী লুটের একটি ভিডিও ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে! মাঝরাস্তা থেকে বস্তা বস্তা রেশন সামগ্রী পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বেশ কিছুদিন ধরেই এই অভিযোগ সামনে আসছিল। পাহারায় ছিল বিজেপি কর্মীরা। তারাই ট্রাক থেকে টোটোয় রেশন সামগ্রীর বস্তা পাচারের সময় পাকড়াও করে।
সরকারি গোডাউন থেকে ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে যাওয়ার পথে আন্দুল রোডের আলামপুর মোড় সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ ট্রাক দাঁড় করিয়ে রেশনের বস্তা নামানো হচ্ছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, লরি থেকে বস্তা নামিয়ে একাধিক টোটোতে তোলা হচ্ছে। পরপর কয়েকটি টোটো লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল এবং সবে একটি টোটোতে রেশন তোলার দৃশ্য প্রকাশ্যে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্যরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং রেশন ডিস্ট্রিবিউটরকে খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডিস্ট্রিবিউটর সেখানে পৌঁছন।
স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, মাঝরাস্তায় এইভাবে রেশন সামগ্রী নামানোর ঘটনাটি তাঁর জানা ছিল এবং মাঝে মধ্যেই এমনটা ঘটে থাকে।তবে কথা বলার সময় ওই ডিস্ট্রিবিউটরের একাধিক কথাবার্তায় চরম অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। এমনকি তিনি নিজের নামও ভুল বলেন, যা ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে। পরবর্তীতে লরিটি আটক করে পুলিশ প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় বিজেপির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও, অভিযোগ উঠেছে যে পুলিশ কোনও সঠিক তদন্ত না করেই গাড়িটি ছেড়ে দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—চোখের সামনে এভাবে দিনের পর দিন বিপুল পরিমাণ রেশন সামগ্রী হাওয়া হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও কেন নীরব ভূমিকা পালন করছেন ডিস্ট্রিবিউটর? প্রশাসনই বা কেন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না? নিয়মিত রেশন উধাও হওয়ার পরও খাতায়-কলমে কীভাবে হিসাব মিলছে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত অনেকেই এই বিশাল পাচার চক্রের সঙ্গে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন।