সোমবারের সকাল থেকে রাজধানীতে তুঙ্গে উত্তেজনা। অবশেষে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে তাঁদের সঙ্গে দেখা করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কিন্তু তাতে কি সমস্যার সমাধান হলো? ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র মুখপাত্র সৌরভ দাস এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নাড্ডার বাসভবনে তাঁরা গিয়েছিলেন। সেখানে ১০ মিনিটের সাক্ষাৎ পর্বে তাঁদের দাবি সম্বলিত একটি চিঠি তাঁরা মন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন। প্রতিনিধিদের সঙ্গে নাড্ডার সাক্ষাতের পরে ২৩ দিন পরে অনশন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করলেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনার মধ্যেই কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার পথে বড় অগ্রগতি। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা (জেপি নাড্ডা)-র সঙ্গে বৈঠকে বসেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিনিধিরা। বৈঠকে তাঁরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সরকারের সামনে তুলে ধরেন।
CJP-র প্রতিনিধিদের দাবি, এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য কোনও রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সর্বভারতীয় নানা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনা। তবে বৈঠক শেষে তাঁরা দাবি জানান, সরকারের তরফ থেকে এখনও কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
১. বিশেষ কিছু NEET পরীক্ষার্থীদের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ
CJP-র দাবি, সাম্প্রতিক প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে বহু পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর জেরে মানসিক চাপ, আর্থিক ক্ষতি ও আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। তাই ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক NEET পরীক্ষার্থীর পরিবারকে ১ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের দাবি জানানো হয়েছে।
২. সোনম ওয়াংচুককে মুক্তি ও স্বাভাবিক চলাফেরার সুযোগ
বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক। CJP-র দাবি, তাঁর চলাফেরা ও যোগাযোগের উপর যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাঁকে স্বাধীনভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
৩. শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বা অপসারণ দাবি করেছে CJP। সংগঠনের বক্তব্য, শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্কটের নৈতিক দায় মন্ত্রীর এড়ানো উচিত নয়।
CJP-র দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক শেষে তাঁরা জানান, সরকার তাঁদের বক্তব্য শুনেছে, কিন্তু কোনও দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস বা লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়গুলি বিবেচনা করার জন্য কিছু সময় চাওয়া হয়েছে।
CJP-র প্রতিনিধিরা জানান, জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে তাঁদের তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। যদিও এখনও কোনও লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি, তবুও আলোচনার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
টানা ২৩ দিন পরে অনশন শেষ করলেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা-র সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিনিধিদের বৈঠকের পরে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের দাবি, সরকারের সঙ্গে আলোচনার রাস্তা খুলে যাওয়ায় এবং দাবিগুলি বিবেচনার আশ্বাস পাওয়ার পরে আপাতত অনশন প্রত্যাহার করছেন ওয়াংচুক।
স্বাস্থ্যগত অবনতির কারণে কয়েকদিন আগে সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভাঙেন। দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শরীরে দুর্বলতা দেখা দিলেও চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং ওয়াংচুককে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অনশন প্রত্যাহার করলেও আন্দোলন শেষ হচ্ছে না বলে জানিয়েছে CJP। সংগঠনের বক্তব্য, সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলবে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অন্য কর্মসূচির মাধ্যমে চালিয়ে যাওয়া হবে। ওয়াংচুকও আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁর উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি ও সংস্কার নিশ্চিত করা।
আলোচনার পাশাপাশি দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ঘিরে বিক্ষোভ, পুলিশি বাধা, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। CJP জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি জারি থাকবে। সংগঠনের বক্তব্য, এই আন্দোলন শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে নয়; বরং দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবিতে বৃহত্তর গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
CJP-র দাবি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে তাঁদের প্রায় ১০ মিনিটের বৈঠক হয়। সেই সময় তাঁরা নিজেদের দাবিপত্র তুলে দেন।
তিনটি প্রধান দাবি হল—
CJP-র অভিযোগ, প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে বহু পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সেই কারণেই ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে।
CJP-র বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার তাঁদের দাবি শুনেছে, তবে কোনও লিখিত প্রতিশ্রুতি বা তাৎক্ষণিক আশ্বাস দেয়নি। বিষয়টি বিবেচনার জন্য সময় চেয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি ওয়াংচুকের চলাফেরা ও যোগাযোগের উপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে তাঁকে স্বাধীনভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
সংগঠন জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত 'চলো সংসদ' আন্দোলন এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
সোনম ওয়াংচুক টানা ২৩ দিনের অনশন শেষে সোমবার উপবাস প্রত্যাহার করেন।
CJP-র দাবি অনুযায়ী, সরকারের সঙ্গে সংলাপের পথ খুলেছে এবং তাঁদের দাবিগুলি বিবেচনার আশ্বাস পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভাঙেন।
CJP-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার বৈঠকের পর আন্দোলনের দাবিগুলি নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ অনশনের কারণে তিনি দুর্বল হলেও বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
না। CJP-র বক্তব্য অনুযায়ী, অনশন প্রত্যাহার করা হলেও আন্দোলনের দাবি ও সরকারের সঙ্গে সংলাপের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।