• অভিষেককে নিয়ে বিস্ফোরক মদন! কী ঘটেছিল ১৫ দিন আগে?
    আজকাল | ২১ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: একুশে জুলাইয়ের ঠিক আগেই 'মিত্র'হীন হয়েছেন মমতা। নেত্রীর হাত ছেড়ে দিয়েছেন দীর্ঘদিনের ভরসার মদন মিত্র। মমতার তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফাও দিয়েছেন মদন। এরপরই বিশেষ করে অভিষেকের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি। অভিমান ঝরে পড়েছে দলনেত্রীর উপরও। তবে, এবার মদন মিত্র রীতিমতো বিস্ফোরক মন্তব্য় করলেন। সোমবার বিধানসভায় মদন বলেন, ''আজ থেকে ১৫ দিন আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ব্যক্তিগত ভাবে গিয়েছিলাম। সেখানে কুণাল ঘোষও ছিলেন। সেখানে আমি বলি, সব কিছুর জন্য দায় স্বীকার করা উচিত। তার উত্তরে অভিষেক বলল, আমি সব ছেড়ে দেব, তার বদলে কী দেবে? তখন নিজেই বলল, আমাকে আমেরিকা যাওয়ার অনুমতি দিক। আমি অবাক হয়ে গেলাম। তখন আমি বললাম, বিজেপি জিতে গেছে, তুমি পদত্যাগ করো।''

    আক্ষেপের সুরে মদন আরও বলেন, ''আমি সারা জীবন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা পশ্চিমবঙ্গে হয়েছিল, আমেরিকা যেতে হয়নি। অভিষেকের চেহারা দেখে মনে হয়েছে যে ধাঁচে ও কথা বলে, তাতে ক্রিমিনাল মেন্টালিটি ছাড়া এভাবে কথা বলা যেতে পারে না।''

    মদন আরও বলেন, ''কেন আমি বদনাম নেব, ২৭ মাস জেল খেটেছিলাম। কেন বদনাম নেবে আমার পরিবার।'' বাংলার প্রাক্তন মন্ত্রী এরপরেই বলে বসেন, ''আমাকে খুন করার চক্রান্ত চলছে। এর পিছনে উপনির্বাচনের কথা ভাবা হচ্ছে।'' 

    মমতার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী ছিলেন মদন মিত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন যুব কংগ্রেসে, সেই সময়ও নেত্রীর পাশে দেখা যেত তাঁকে। মমতা তৃণমূল তৈরির পরও সেভাবেই ছিলেন। এমনকি এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরও নেত্রীর পাশেই ছিলেন তিনি। অন্যরা যখন বিদ্রোহ করছেন, সেই সময় তাঁদের কটাক্ষও করেছেন। কিন্তু সেই মদনও দিনকয়েক আগে নিজেই মমতার হাত ছাড়েন। নেত্রীর দেওয়া ইদানীং কালের সব পদও ছেড়ে দিয়েছেন। ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র পক্ষ থেকে চিফ হুইপ করা হয়েছিল মদনকে। সেই পদ ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। আর এবার যা একের পর এক দাবি করলেন মদন, তাতে বাংলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
  • Link to this news (আজকাল)