মালদহে ৩ নদীর জল বাড়তেই হাইঅ্যালার্ট! পরিস্থিতি সামলাতে ছুটে গেলেন প্রতিমন্ত্রী
News18 বাংলা | ২১ জুলাই ২০২৬
: বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই অবস্থায় গঙ্গা! বর্ষা শুরুতেই ফুলে-ফেঁপে উঠছে গঙ্গা, মালদহের রতুয়ায় ফের ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে গঙ্গা তীরবর্তী এলাকায়। ঘটনার পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতিমধ্যে নজরদারিতে মাঠে নেমেছে প্রশাসনিক কর্তারা। গত জুন মাসে ব্যাপকভাবে বৃষ্টি না হলেও জুলাই মাসে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত দেখা দিয়েছে মালদহ জেলায়। যার ফলে মালদহ তিনটি নদীতেই প্রায় বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই অবস্থায় জলস্তর। গঙ্গা, ফুলহার, মহানন্দা এই তিনটি নদীর জল ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও বিপদসীমার নিচে রয়েছে তিনটি নদীর জলস্তর।
এদিন মালদহের রতুয়া থানার মহানন্দাটোলার নদী তীরবর্তী এলাকায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে গঙ্গার ভাঙনে মহানন্দাটোলা ও বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রাম, ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিবছর বালির বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা হলেও তাতে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। তাই বোল্ডার দিয়ে স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় এক বাসিন্দা সীমা সোরাফ বলেন, “গঙ্গার জল অনেক বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়িঘর নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে। প্রশাসনের লোকজন এসে বাড়ি ঘর সরিয়ে দিতে বলেছেন। তবে কোথায় যাব, কী করব, কিছুই বুঝতে পারছিনা।”
এ বিষয়ে সেচ প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু জানান, “পরিস্থিতির উপর নজর দিয়ে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় পুলিশ প্রশাসন এবং এনডিআরএফ টিম বিশেষভাবে নজরদারি চালাচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক জল বেড়েছে। ইতিমধ্যে ভাঙন রোধের কাজ বিভিন্ন জায়গায় চলছে। যদিও ভাঙন রোধ সম্ভব না হয় তাহলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের অনুরোধ তারা যেন নিরাপদ স্থানে চলে যান।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলস্তর রয়েছে জলস্তর ২২.৮৮ মিটার যা বিপদসীমার প্রায় ২ মিটার নিচে। ফুলহার নদীর জলস্তর ২৪.৯০ যা বিপদসীমার প্রায় আড়াই মিটার নিচে এবং মহানন্দা নদীর জলস্তর ১৮.৫৫ মিটার যা বিপদসীমার প্রায় আড়াই মিটার নিচে। তাই জেলার তিনটি নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় তৎপরতা দেখা দিয়েছে প্রশাসনের মধ্যে।