• মাথার ওপর খসে পড়ছে চাঙ্গড়, গাদাগাদি করে চলছে ক্লাস! দেখে আপনিও আঁতকে উঠবেন
    News18 বাংলা | ২১ জুলাই ২০২৬
  • তমলুকের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন। প্রায়শই ছাদের চাঙ্গর একাংশ খসে পড়ছে। স্কুলের এমন ভগ্ন দশা তা সত্ত্বেও প্রতিদিন তারই নিচে বসছে ক্লাস। চলছে পঠন পাঠন। ভারী বৃষ্টিতে ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ছে। প্রতিদিন বড়সড় বিপদ মাথায় নিয়ে ক্লাস করে যাচ্ছে খুদে পড়ুয়ারা। আতঙ্ক নিয়েই পঠন পাঠন চলছে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের ধোবাপাড়া যোগেন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখনও চরম ভীতি ও আশঙ্কার মধ্যেই ভাঙাচোরা জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে পড়ুয়ারা। একই অবস্থা শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও।

    স্থানীয় ও স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো দীর্ঘ দিন ধরেই অত্যন্ত শোচনীয়। ছাদের প্লাস্টার খসে পড়া থেকে শুরু করে দেওয়ালে চওড়া ফাটল,  সবমিলিয়ে কার্যত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে স্কুলটিতে। প্রতিদিন এক বুক আতঙ্ক ও মানসিক উদ্বেগ নিয়েই ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। জানা যায় ১৯৮১ সালে এই স্কুল ভবনটি তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ ৪৫ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে ভবনের এই দশা। ছাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। স্কুলের মোট ৩টি ঘরের মধ্যে একটিতে ফ্যান ভেঙে পড়ায় সেটি বর্তমানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাকি মাত্র দু’টি ঘরেই কোনওরকমে আপার নার্সারি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত সব ক’টি ক্লাসের পঠনপাঠন চালাতে হচ্ছে।

    স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিগত সরকারের আমলে ‘পাড়ায় সমাধান’ কর্মসূচি থেকে স্কুলের মেরামতির জন্য কিছু টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে সেই সামান্য টাকায় পুরো স্কুলের সংস্কার করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন ঠিকাদার। ফলে কাজ আর এগোয়নি, পরিস্থিতি রয়ে গিয়েছে একই রকম। বর্তমানে রাজ্যে বর্ষা চলায় পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্কুলের এক শিক্ষিকা ক্ষোভের সুরে বলেন, “এখন বর্ষাকাল। ভারী বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে জল পড়ে। সবসময় মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ার আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে। এই অবস্থায় পড়ানো অসম্ভব হয়ে উঠছে।”

    এদিকে এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবকরা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার স্কুলের এই বেহাল দশার কথা প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। ফলে প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই জরাজীর্ণ প্রাথমিক স্কুল ভবনে চলছে ক্লাস। খুদে পড়ুয়াদের জীবন এভাবে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়ে দিনের পর দিন ক্লাস চলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। অবিলম্বে স্কুল ভবনটি সম্পূর্ণ সংস্কার করে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)