ঐতিহ্যের বাজারে জলাবদ্ধতার অভিশাপ, চরম ভোগান্তিতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। ঐতিহ্য ও ইতিহাসে সমৃদ্ধ বসিরহাটের পুরাতন বাজারে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যা ফের সামনে এসেছে। রাজা সংগ্রাম সিংহ, মান সিংহ এবং প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত এই শতাব্দী প্রাচীন বাজার বসিরহাটের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাকেন্দ্র।
কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই বাজার চত্বরে হাঁটু সমান জল জমে যাওয়ায় চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের নিকাশি ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল হয়ে রয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ কার্যত দেখা যায়নি। বৃষ্টি হলেই নর্দমা উপচে নোংরা ও নোনা জল দোকান এবং গুদামে ঢুকে পড়ে। ফলে সেখানে মজুত থাকা চাল, ডালসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে গিয়ে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা দূষিত জলের কারণে বাজার এলাকায় মশার উপদ্রবও বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এর ফলে ডেঙ্গিসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিদিন জল মাড়িয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেকের পায়ে চর্মরোগের সমস্যাও দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ। জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে বাজারের ব্যবসাতেও। ক্রেতাদের যাতায়াতে অসুবিধা হওয়ায় বাজারে ভিড় কমছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়ীদের আয়ে। স্থানীয়দের মতে, পুরাতন বাজার শুধু একটি ব্যবসাকেন্দ্র নয়, এটি বসিরহাটের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রতিদিন বহু মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটার জন্য এই বাজারের উপর নির্ভরশীল। ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই বাজারকে রক্ষা করতে দ্রুত আধুনিক ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে নিয়মিত নর্পদমা পরিষ্কার ও জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হলে ব্যবসায়ী, ক্রেতা এবং এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের এই জলযন্ত্রণা থেকে স্বস্তি পাবেন।