ডাইনি অপবাদে আদিবাসী মহিলাকে মারধরের অভিযোগ, গ্রামছাড়া পরিবার; তদন্তে পুলিশ
News18 বাংলা | ২১ জুলাই ২০২৬
একবিংশ শতাব্দীতেও মধ্যযুগীয় বর্বরতা! ডাইনি অপবাদে আদিবাসী মহিলাকে মারধরের অভিযোগ গ্রামের বেশ কয়েকজন মোড়ল মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পুরাতন মালদহের ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একটি গ্রামে। অভিযোগ, গ্রামের কয়েকজন মোড়ল ও মাতব্বরের ডাকা সালিশি সভায় এক আদিবাসী মহিলা ও তাঁর স্বামীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ডাইনি সন্দেহে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে হয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার সকালে সালিশি সভায় ওই দম্পতিকে হাজির হতে বলা হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ‘নির্যাতিত ওই মহিলার জন্য গ্রামের মানুষ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।’ সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে ডাইনি অপবাদ তুলে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
এমনকী নির্যাতিতা মহিলাকে প্রকাশ্যে জুতোপেটা করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর ভাইকেও মারধর করা হয়। শুধু তাই নয় তাঁদের সন্তানদেরও হেনস্তা করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। অভিযোগ, সালিশি সভা থেকে ওই পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং গ্রামে ফিরলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। ঘটনার খবর পেয়ে মালদহ থানার পুলিশ ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে। মারধরের জেরে আহত ওই মহিলার বাম চোখে আঘাত লাগে এবং তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে নিরাপত্তার অভাবে দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁরা গ্রামছাড়া অবস্থায় আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
এই ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে মালদহ থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। নির্যাতিত পরিবার প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজেদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক গোপালচন্দ্র সাহা বলেন, “ডাইনি সন্দেহে আদিবাসী মহিলাকে মারধরের অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক। বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি এবং গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ওই পরিবারকে নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।” ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।