মাঝরাতে বুকে-পেটে প্রচণ্ড যন্ত্রণা, শিশুর আঙুলে 'দাগ' দেখে সব পরিষ্কার...! আর কিছু করা গেল না
News18 বাংলা | ২১ জুলাই ২০২৬
পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার জামনা গ্রাম পঞ্চায়েতের কানপুর এলাকায় সাপের ছোবলে মর্মান্তিক মৃত্যু হল দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রের। মৃত শিশুর নাম তামিম শেখ। ছোট্ট ছেলেটির অকাল মৃত্যুতে গোটা এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে আচমকাই তামিম বাড়ির লোকেদের জানায় তার পেটে, বুকে ও হাতে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে। পাশাপাশি শ্বাসকষ্টও শুরু হয়।
প্রথমদিকে কেউ বুঝতেই পারেননি ঠিক কী হয়েছে। দ্রুত তাকে মন্তেশ্বর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা, অক্সিজেন ও অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। অ্যাম্বুল্যান্সে করে বর্ধমানের উদ্দেশে রওনা হলেও, পথেই তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে আবার হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হলে চিকিৎসকরা সবরকম চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতের পরিবারের দাবি, প্রথমে কেউ বুঝতে পারেননি যে তামিমকে সাপে কামড়েছিল। কারণ সে শুধু পেটে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের কথাই বলছিল। পরে চিকিৎসার সময় তার ডান হাতের একটি আঙুলে সাপের ছোবলের মতো দুটি দাগ দেখতে পাওয়া যায়। এরপর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরিবারের অনুমান, সাপের ছোবলের কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মাঠের ধারে বাড়ি হওয়ায় রাতের অন্ধকারে বিষধর সাপের ছোবলের শিকার হয়েছিল বলে তাঁদের ধারণা।
সোমবার বিকেল প্রায় তিনটে নাগাদ কালনা মহকুমা হাসপাতালে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া তামিমের এমন অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। যে শিশুটি কয়েক ঘণ্টা আগেও পরিবারের সঙ্গে হাসি-খুশি ছিল, রাত পোহাতেই সে নিথর। বাড়ির উঠোনজুড়ে এখন শুধুই কান্নার রোল। প্রতিবেশীরাও শোকে স্তব্ধ। একটি বিষধর সাপের ছোবল যে মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারের সমস্ত স্বপ্ন ও হাসি কেড়ে নিতে পারে, তামিমের মৃত্যু যেন সেই নির্মম বাস্তবতারই আরেকটি বেদনাদায়ক উদাহরণ।