• নতুন করে FIR, ক্ষতিপূরণও, শুভেন্দু একুশে জুলাই ফাইল খুলতেই উঠে এল একাধিক বড় নামও
    আজ তক | ২১ জুলাই ২০২৬
  • যেমন কথা, তেমন কাজ। সকালেই বলেছিলেন আজ প্রকাশ্যে আনবেন ২১ জুলাইয়ের ফাইল। আর বিকেলে বিধানসভার মধ্যেই সেই ফাইল সামনে নিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

    এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, কমিশন সুপারিশ করেছিল, ১২ জন মৃতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ ও আহতদের ৫ লক্ষ করে টাকা দেওয়ার। কিন্তু সেই সুপারিশ না মেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার মৃতদের দিয়েছে ২ লক্ষ করে টাকা। আর আহতদের ১৫ হাজার করে টাকা দিয়েছিল।

    তাই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এখন মৃতদের পরিবার এবং আহতদের পরিবার চাইলে তিনি বাকি টাকা দিতে পারেন। এমনকী নতুন করে করা হতে পারে এফআইআর।

    এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, 'আমি আহত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে বলব, আপনারা যদি নতুন করে এফআইআর করতে চান, সেই সুযোগ বর্তমান সরকার দেবে। আপনারা যদি কমিশনের সুপারিশ মতো ক্ষতিপূরণ বর্তমান সরকারের কাছে চান, মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সেই টাকা দেওয়া হবে।'


    মাথায় রাখতে হবে, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ যুব কংগ্রেস 'ভোটার পরিচয়পত্র ছাড়া ভোট নয়' দাবিতে কলকাতায় এক সমাবেশ করেছিল। অভিযোগ, সেই আন্দোলনের সময়ই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই সময় গুলি চালায় পুলিশ। তাতে ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। বিরোধী থাকাকালীন মমতা দাবি করেন, ক্ষমতায় এলে এই হত্যার বিচার হবে। তিনি দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেবেন। সেই মতো ২০১১-এর পর ২১ জুলাই কমিশন গড়া হয়েছিল বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। কিন্তু সেই সুপারিশ বা পর্যবেক্ষণ মমতা মানেননি বলে আজ দাবি করলেন শুভেন্দু।

    মোট ৪৪ জনকে ডাকা হয়েছিল
    এ দিন শুভেন্দু জানালেন, এই ঘটনার তদন্তে মোট ৪৪ জনকে ডাকা হয়েছিল। বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, তৎকালীন মুখ্যসচিব এম কৃষ্ণমূর্তি, স্বরাষ্ট্র সচিব মণীশ গুপ্ত, পুলিশ কমিশনার তুষারকান্তি তালুকদার, বাম নেতা বিমান বসু, কংগ্রেস নেতা সোমেন্দ্র নাথ মিত্র, পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ৪৪ জনকে ডাকা হয়েছিল। 

    তবে কমিশন ডাকেনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু। আর তা নিয়ে তীর্যক মন্তব্য করতেও ছাড়েননি তিনি।

    কী পর্যবেক্ষণ ছিল?
    কমিশনের পর্যবেক্ষণ ছিল, রাইটার্স বিল্ডিং থেকে অনেক দূরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল। সেখানে গুলি চালানোর কোনও প্রয়োজন ছিল না। 

    পাশাপাশি কমিশন সুপারিশ করেছিল, রাইটার্স বিল্ডিংয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ করা যায়নি। ডকুমেন্ট হারিয়ে যায়। তার জন্য সঠিক তদন্ত করে যথাযোগ্য পদক্ষেপ করা উচিত। পাশাপাশি এই বিক্ষোভে মৃতদের শহিদ হিসেবে গণ্য করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সব কিছুই করা হয়নি বলে কটাক্ষ করলেন শুভেন্দু। 

     
  • Link to this news (আজ তক)