• "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্রাজ্যের পতন নিয়ে একদিন স্ক্রিপ্ট লিখব, সত্যিই কার ভুল কে ঠিক...", শতাব্দী রায়
    News18 বাংলা | ২০ জুলাই ২০২৬
  • কলকাতা: বাংলার নির্বাচনে হারের পর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ায় মিশেছেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। মমতা এবং অভিষেকের হাত ছেড়ে এনডিএ -কে সমর্থন করছে এই দল। সকলেই অভিষেকের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। সেই দলে রয়েছেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়ও।

    প্রসঙ্গত এই নিয়ে মুখ খুলে আবারও খবরের শিরোনামে এসেছেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনি বলেন, অনেকটাই দেরি করে ফেললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন না বলে যদি ভোটের ফল প্রকাশের পরই তিনি ইস্তফা দিতেন, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে এমন দিন আসত না বলেও দাবি করলেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়।

    একটি পডকাস্টে শতাব্দী অকপট দল নিয়ে বহু কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে শেষ দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কোনও কথা হয়নি। এমনকী দল ছাড়ার পরও কোনও টেক্সট মেসেজে কথা হয়নি শতাব্দী-মমতার । শেষদিন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অর্থাৎ দলনেত্রীর সঙ্গে দেখাও করে আসেননি। কারণ সেই সময় তাঁর মনে অনেক অভিমান-অভিযোগ জমেছিল। শতাব্দী জানান যে, তিনি দিদির সঙ্গে এখন কোনও কথা বলবেন না, কারণ তিনি সন্দিহান যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া কী হবে। তবে ভবিষ্যতে দেখা হলে কী হবে, কী কথা হবে তাঁদের মধ্যে, তা সময়ই বলবে বলে মত বীরভূমের সাংসদের।

    অভিনেত্রীর পাশাপাশি শতাব্দী রায় একজন পরিচালক। লেখালেখির সঙ্গে তিনি যুক্ত। তাঁর কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। পডকাস্টের সঞ্চালকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান যে কোনও একদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্রাজ্যের পতন নিয়ে তিনি স্ক্রিপ্ট লিখবেন। শতাব্দীর কথায়, “ততদিনে আরও বয়স হবে, realize করব সত্যিই কার ভুল ছিল, ঠিক ছিল, তবে এই মুহূর্তে দলের ভুলেই দেখতে পাচ্ছি। না হলে পাশের লোকগুলো কেন চলে যাবে?” ববি হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসের প্রসঙ্গ তুলে এই প্রশ্নই ছুঁড়ে দেন দীর্ঘদিনের সাংসদ।

    বিদ্রোহীদের দলে তিনি রয়েছেন, রয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এবং খুবই সোচ্চার হয়েছেন দু’জনেই। ফলে অনেকে বলছেন যে শিল্পীরা দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। দলে শিল্পীদের না আনা ভাল ছিল, এমন মত উঠে আসছে। এই প্রসঙ্গে শতাব্দী রায় বলেন যে, “শুধু আর্টিস্টদের আনা কেন ভুল হবে, কেন শুধু তাঁদের বেইমানি নিয়ে কথা হচ্ছে, যাঁরা পুরোপুরি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাঁরাও তো এখন বিদ্রোহী, মমতা-অভিষেকের সঙ্গে আর নেই।” শতাব্দী আরও বলেন যে “মমতা-অভিষেকের দল ছাড়ার ক্ষেত্রে ৫ জন artist হলে, ৫০ জন politician”।

    তৃণমূল দলে যোগ দেওয়া শিল্পীদের নিয়ে মুখ খোলেন শতাব্দী। উঠে আসে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্ধ্যা রায়, মুনমুন সেনের কথা। রচনাকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেন যে মাত্র ২ বছর হয়েছে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ হিসেবে। নায়িকার কথায়, রচনা তাঁর নিজের কাজ নিয়ে খুব series , ফলে তিনি নিজের এলাকায় গিয়ে কাজ করবেন, এমনই ধারনা অভিজ্ঞ রাজনীতিকের। এছাড়া সন্ধ্যা রায়কে যখন দলে আনা হয়, তখনই শতাব্দী বলেছিলেন যে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দলের হয়ে ভাল কাজ করতে পারবেন, যদিও মুনমুন সেন প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন যে সুচিত্রা কন্যা ঠিকভাবে রাজনীতি করতে পারবেন না বলে ধারনা ছিল তাঁর, কারণ মুনমুন সেই মানসিকাতারই নন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)