দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শহিদ দিবস এককভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। কিন্তু এবার রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ সম্পূর্ণ আলাদা। ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশে তৃণমূলের মঞ্চ এবার দুই শিবিরে বিভক্ত। একদিকে ‘কালীঘাট’ তৃণমূল অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘আসল’ তৃণমূল। সভা করবে কংগ্রেসও। ফলে ২১ জুলাইকে ঘিরেই বাংলার রাজনীতি বহুমুখী লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে। এহেন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এক অনন্য সৌজন্যের নজির সৃষ্টি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর আবেদন রেখে মঙ্গলবার বিধানসভা অধিবেশনে দু’ঘণ্টার লাঞ্চ ব্রেকের অনুমতি দিলেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু। বিরোধীদলের বিধায়করা যাতে শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন সেজন্যেই এই আবেদন জানান ‘মানবিক’ মুখ্যমন্ত্রী। আর তা মঞ্জুরও করেন অধ্যক্ষ।
সোমবার থেকে বাজেটের দ্বিতীয় পর্যায়ের অধিবেশন শুরু হয়েছে বিধানসভায়। আগামী কয়েকদিন এই অধিবেশন চলার কথা রয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তিনি নিজে উপস্থিত থাকছেন। এর মধ্যেই আগামিকাল মঙ্গলবার ঐতিহাসিক ২১ জুলাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বটেই, তৃণমূলের সমস্ত নেতা-কর্মীদের কাছে একটা আবেগের দিন। গত বছর পর্যন্ত ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে বড় করে ২১ জুলাই পালন করেছে তৃণমূল। কিন্তু এবার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আলাদা। কিন্তু আবেগ কি মুছে দেওয়া যায়! এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বিধায়করা যাতে শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে পারেন সেজন্য অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে দু’ঘণ্টার লাঞ্চ ব্রেক দেওয়ার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই আবেদন রাখেন অধ্যক্ষ। জানান, ”কাল ২১ জুলাইয়ের জন্য বিধানসভার অধিবেশন মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ মেনে ২ ঘণ্টার লাঞ্চ ব্রেক হবে।”
মঙ্গলবার শহিদ দিবসকে মাথায় রেখে তিনটি সভা হবে শহরে। তারামণ্ডলের সামনে সভা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সভা করবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল’ তৃণমূল। শহিদ দিবসকে ঘিরে তৃণমূলের দড়ি টানাটানির মধ্যে এবারই কংগ্রেস ২৮ বছর পর বিধানভবনের বাইরে শহিদ তর্পণ করবে। সভা হবে শহিদ মিনার ময়দানে। আর এই তিনসভা ঘিরেই যখন রাজনৈতিক তরজা চড়ছে, সে সময় ফের একবার সৌজন্যের পরিচয় দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুঝিয়ে দিলেন তিনি কোনও নির্দিষ্ট দলের নয়, তিনি সবার মুখ্যমন্ত্রী।