‘২০২৬ সালের ৯ জুলাই থেকে জ্যোৎচাঁদ ও পাইকপাড়ার নদীর ধার থেকে ঝাপানতলা পর্যন্ত সমস্ত জমিতে চাষাবাদ বন্ধ থাকবে।’ মধ্যযুগের মতো ঢেঁড়া পিটিয়ে পোস্টার দিয়ে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকে এমনই ঘোষণা করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে স্থানীয় কৃষকদের। আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁদের। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জ্যোৎচাঁদ ও পাইকপাড়ার নদীর ধার থেকে ঝাপানতলা পর্যন্ত পুরো এলাকাটাই চাষজমি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অধিকাংশই কৃষক। জমিটুকুই তাঁদের সম্বল। সেখানে চাষ করেই সংসার চালান তাঁরা। কিন্তু সেই জমিতেই নামতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত পেয়েছেন অনেকে।
জ্যোৎচাঁদ গ্রামের বাসিন্দা তোতন মান্না বললেন, ‘একজন লোক সাইকেলে চেপে গ্রামে এসেছিল। ঢোল পিটিয়ে বলে গেল, এখন থেকে চাষাবাদ বন্ধ।’ গ্রামের অধিকাংশ এলাকায় বেশ কিছু পোস্টারও পড়েছে। সেখানে লেখা, ‘এটা বিজেপির মণ্ডল সভাপতির নির্দেশ। কেউ দলের নির্দেশ অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এমন ফতোয়ার বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন জ্যোৎচাঁদ গ্রামের সুকুমার মান্না। তাঁর অভিযোগ, ‘জমিতে ট্রাক্টর নামতে দেওয়া হচ্ছে না। নির্দেশ অমান্য করে চাষ করতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’
তবে গ্রামের কৃষকদের কাছে জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা নবকুমার মান্না। তাঁর কথায়, ‘আমাদের কাছে জমির দলির রয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, ‘আসলে তোলা আদায়ের চেষ্টা হচ্ছে। যাঁরা টাকা দিচ্ছেন, শুধু তাঁরাই চাষ করতে পারছেন।’
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপির জামালপুর ৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি অসীম শীল ওরফে সন্তু। তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। দলের তরফে ঢেঁড়া পিটিয়ে এমন ঘোষণা হয়নি।’ পাল্টা বিজেপিকে বদনাম করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অসীমের কথায়, ‘কয়েক জন গ্রামবাসী বিজেপির নাম নিয়ে এই সব করছে। আমাদের বদনাম করার চেষ্টা হচ্ছে।’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এলাকায়।