২১ জুলাইয়ের আগের রাতে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের সভাস্থল ভাভচুরের অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, ‘রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বিজেপির ছেলেরা ৬০টা বাইকে চেপে এসে মঞ্চ ভাঙচুর করেছে।’ পুলিশ ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি রাজ্য সরকার বা কলকাতা পুলিশ।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে ২১ জুলাইয়ের সভা করার অনুমতি পেয়েছে তৃণমূল। এ দিন বিকেলে মঞ্চ বাঁধার কাজ দেখতে যান মমতা নিজে। গিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু রাতেই সভাস্থল ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামে ছুটে যান মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রাও।
ভাঙা মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে হ্যান্ড মাইক নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মমতা। তাতে আগাগোড়া রাজ্য সরকার, পুলিশ এবং বিজেপিকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। মমতা বলেন, ‘রাত সাড়ে দশটা নাগাদ এক ক্রিমিনালের নেতৃত্বে ৬০-৬৫ জনের বাইক বাহিনী এসে সভাস্থল ভাঙচুর করে। ছাত্র-যুবদের উপরে হামলা চালায়।’ মঞ্চে ভাঙচুরের পাশাপাশি বিদ্যুতের লাইন, মাইকের কানেকশন কেটে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
ভাঙচুরের ঘটনাকে আদালত অবমাননা বলে তোপ দাগেন মমতা। বিস্ময়ের সুরে তিনি বলেন, ‘কলকাতা হাইকোর্ট যেখানে অর্ডার দিয়ে বলেছে, পুলিশকে আইন-শৃঙ্খলা দেখতে হবে, সেখানে হঠাৎ করে সবাই পালিয়ে গেল। আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি।’ রাজধানীতে ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানে পুলিশের লাঠিচার্জের প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। মমতার কথায়, ‘দিল্লিতে CJP-র সঙ্গে কী করেছে আপনারা দেখেছেন, এখানেও তাই করেছে।’
এর পরেই পুলিশ ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করার হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূল নেত্রী। তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ‘পুলিশ ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করতে বলব। আমাদের কি পাহারা দেওয়ার জন্য বসে থাকতে হবে?’ পুলিশকেও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। মমতার কথায়, ‘IC, SP গিয়ে শহিদ পরিবারের বাড়ি ঘেরাও করে বসে রয়েছে।’ গোটা ঘটনায় ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের সরব হওয়ার আবেদনও করেছেন মমতা।