নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঘটনায় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল তৃণমূল সরকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবেই গত ১৫ বছরেও তার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি। আজ, সোমবার ২১ জুলাইয়ের একদিন আগে বিধানসভায় সেই রিপোর্ট পেশ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, কমিশন এই বিষয়ে বহু আগেই রিপোর্ট দিয়েছে। ৪৪ জনকে ডেকেছিল কমিশন। কিন্তু পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় সাক্ষী দিতে রাজি হননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের প্রধান সাক্ষী ছিলেন। তাকেই ডাকেনি কমিশন! হয়ত মমতা আলাদা করেই বলে দিয়েছিলেন যে তাঁকে যেন ডাকা না হয়। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ২১ জুলাইকে ব্যবহার করে অনেকেই অনেক কিছু করে নিয়েছেন। সেই দিনের ঘটনায় অভিযুক্ত মণীশ গুপ্তকে পরে মন্ত্রীও করা হয়েছিল। তবে কার নির্দেশে ওইদিন পুলিশ গুলি চালিয়েছিল তা জানাই যায়নি। এমনকী কমিশনের প্রস্তাব মেনে হতাহতদের টাকাও দেওয়া হয়নি। প্রস্তাব অনুযায়ী নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ এবং আহতদের ৫ লক্ষ করে টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল কমিশন। কিন্তু নিহতদের পরিবারকে মাত্র ২ লক্ষ এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। যা লজ্জাজনক। এদিন বক্তব্য পেশের শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিহতদের পরিবার চাইলে নতুন করে এফআইআর করতে পারেন। সেই সুযোগ বর্তমান সরকার আপনাদের দেবে। আপনারা যদি কমিশনের সুপারিশ মতো ক্ষতিপূরণ বর্তমান সরকারের কাছ থেকে চান তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সেই টাকা আপনাদের দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযান হয়। সেই অভিযান আটকাতে গুলি চালায় পুলিশ। তাতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস নেতার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে তৎকালীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে। পরে তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সেই ঘটনার তদন্তে কমিশন গঠন করা হয়। সেই কমিশন বাম সরকারের একাধিক নেতা-মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল।