• বাইক-সরঞ্জাম ফেলেই চম্পট, অরণ্য সপ্তাহের মাঝেই ব্যবসায়ীর কুকর্ম! 'রেগে লাল' সবাই
    News18 বাংলা | ২১ জুলাই ২০২৬
  • একদিকে যখন পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিয়ে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে অরণ্য সপ্তাহ, ঠিক তখনই সংগঠনের এক সদস্যের বেআইনি গাছ কাটার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গেল শান্তিপুরের নতুনহাট এলাকায়। গাছ লাগানোর মহৎ উদ্যোগের মাঝেই সহকর্মীর এমন কীর্তিতে স্বভাবতই চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন শান্তিপুর কাষ্ঠ ব্যবসায়ী সংগঠনের কর্তারা। সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিবছরের মত এ বছরেও বন দফতরের মাধ্যমে ও স্থানীয় বিধায়কের উদ্যোগে প্রাপ্ত প্রায় এক হাজার চারা গাছ রোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে শান্তিপুর কাষ্ঠ ব্যবসায়ী সংগঠন।

    সংগঠনের প্রায় ৩০০ জন সদস্যকে পরিবেশ সচেতন করতে এবং নতুন চারা গাছ লাগাতে যখন নতুনহাট এলাকায় অনুষ্ঠান চলছিল, ঠিক তখনই আসে সেই খবর। জানা যায়, গতকাল ঢাকা-পাড়া এলাকায় একটি বড় মেহগনি গাছ কাটার পর, এদিন আবারও অন্য এক গৃহস্থের দুটি গাছ কাটছেন সংগঠনেরই এক সক্রিয় সদস্য কালু পাল। এই খবর পাওয়া মাত্রই অনুষ্ঠানের মাঝখান থেকেই ক্ষুব্ধ সংগঠনের দু-একজন কর্মকর্তা তড়িঘড়ি ছোটেন ঘটনাস্থলে। কর্মকর্তাদের আসতে দেখেই বেগতিক বুঝে নিজের মোটর সাইকেলটি ফেলেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন অভিযুক্ত কাষ্ঠ ব্যবসায়ী কালু পাল।

    ঘটনাস্থল থেকে গাছ কাটার কুড়াল, দড়ি এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করেন কর্মকর্তারা। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা প্রধান অতিথি তথা বিধায়ক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে সংগঠনের পক্ষ থেকেই লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হচ্ছে। তবে কাষ্ঠ ব্যবসায়ীদের কর্তারা এও মেনে নিয়েছেন যে, শুধু ওই ব্যবসায়ী নন, সংশ্লিষ্ট পরিবারটির মধ্যেও অসচেতনতা ছিল। কারণ, বন দফতরের ন্যূনতম কোনও অনুমতি না নিয়েই গাছগুলি কাটা হচ্ছিল। সংগঠনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “আজকের এই শুভ দিনে উপস্থিত না থেকে, সরকারি নির্দেশ ও সংগঠনের সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কালু পাল পরিবেশ নষ্ট করছিলেন।

    শান্তিপুর গ্রাম ও শহরের সমস্ত ব্যবসায়ীকে আমরা যে এখনো পুরোপুরি সচেতন করতে পারিনি, তা আমরা স্বীকার করছি। তবে হাজার চারা গাছ লাগানোর চেয়েও আজকে কয়েকটা গাছ কাটা বন্ধ করতে পেরে আমরা খুশি।” কাষ্ঠ ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে, গাছ কাটা মানেই সবসময় বেআইনি নয়। প্রয়োজনের তাগিদে সরকারি নিয়ম মেনে এবং বন দফতরের উপযুক্ত অনুমতি নিয়ে গাছ কাটা যেতেই পারে, কিন্তু চোরের মত লুকিয়ে পরিবেশ ধ্বংস করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। পলাতক ব্যবসায়ীর খোঁজে ও ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
  • Link to this news (News18 বাংলা)