• চিকিৎসকের অভাব, থ্যালাসেমিয়া কেন্দ্রের বেহাল দশা! রোগীদের অবস্থা দেখে তো চোখে জল আসবে...
    News18 বাংলা | ২১ জুলাই ২০২৬
  • নিয়মিত রোগী এলেও চিকিৎসক আসেন সপ্তাহে এক-দু’দিন। পরিষেবার পরিকাঠামো জীর্ণ হয়ে পড়েছে হাওড়ার থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসা কেন্দ্রের। চিকিৎসা করাতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের। হাওড়া পুরসভা পরিচালিত পঞ্চাননতলা রোডের থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসা কেন্দ্রে গত বেশ কয়েকদিন ধরে তীব্র পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পানীয় জল না থাকায় রক্ত নিতে বা পরীক্ষা করাতে আসা রোগীদের পাশাপাশি কর্মী ও স্বজনদের চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

    হাসপাতালের শৌচালয় থাকার সত্বেও, জল না থাকায় শৌচাগার ব্যবহার করতে রোগীদের যেতে হচ্ছে বাইরে। বাম আমলে ২৫ শয্যার এই হাসপাতালটি দুস্থ থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য চালু হয়েছিল। প্রায় তিন বছর আগে তৎকালীন পুর-চেয়ারপার্সন ডঃ সুজয় চক্রবর্তীর উদ্যোগে হাসপাতালটির সংস্কার করা হয়। উন্নত ল্যাবরেটরি এবং বিনামূল্যে রক্ত দেওয়ার জন্য ব্লাড ব্যাঙ্কও চালু হয়। তবে অভিযোগ, বর্তমানে নজরদারির অভাবে কেন্দ্রটির পরিষেবা ভেঙে পড়েছে।

    কর্মীসঙ্কটে রক্ত পরীক্ষার ল্যাবরেটরি বন্ধ। রোগীদের কথায় নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। এক রোগী জানান, পরিষেবার দিক থেকে সমস্যা অনেক। জল পরিষেবার পাশাপাশি বসার বেঞ্চগুলিও ভাঙা, রোগীদের বসার জায়গার অভাব। চিকিৎসার উপযোগী পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে দিনে দিনে। হাসপাতালের একাংশে পুরসভার জঞ্জালের গাড়ি রাখা হচ্ছে এবং প্রবেশপথে গজিয়ে উঠেছে অস্থায়ী ভ্যাট, যার ফলে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।

    হাসপাতালে শয্যাগুলিতে যে কভার দেওয়া থাকে, সেই বেডকভার অপরিষ্কার, পাল্টানো হয়নি দীর্ঘদিন। অন্যদিকে নিয়মিত রোগী আসছেন, প্রতিদিন প্রায় ২০ জন রোগী আসেন। কিন্তু চিকিৎসক আসেন সপ্তাহে এক দিন, এমনটাই অভিযোগ। অভিযোগ একাধিকবার পুরসভাকে জানিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। হাওড়ার জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে, তারপরেও কোনও সুরাহা মেলেনি।
  • Link to this news (News18 বাংলা)