• ‘রাজনৈতিক রং না লাগানোই উচিত’, রামমন্দিরের অনুদান তছরূপের অভিযোগ নিয়ে বড় পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
    এই সময় | ২১ জুলাই ২০২৬
  • অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান তছরূপের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল গোটা দেশ। তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক রং না লাগানোর পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার সিবিআই তদন্তের দাবিতে করা মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা বলেন, ‘এটা ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে তদন্তের বিষয়। এই ঘটনাকে রাজনৈতির বিতর্কে পরিণত না করাই উচিত।’ একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের উপরেও জোর দিয়েছে আদালত।

    দানের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইতিমধ্যেই তিন সদস্যের SIT গঠন করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। কিন্তু অনেকেই এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন। তাঁরা পাল্টা মামলা করেছেন সুপ্রিম কোর্টে। আবেদনকারীদের দাবি, আদালতের তত্ত্বাবধানে গোটা মামলার তদন্ত করুক সিবিআই। সেই মামলাতেই বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হয়। উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনাও। মন্দির ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখার দাবিতে মামলারও শুনানি হয় এ দিন।

    শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে। সিট ইতিমধ্যেই তদন্তের স্ট্যাটাস রিপোর্টও আদালতে জমা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাজ্য পুলিশ তদন্ত করছে। প্রাথমিক ভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধের প্রমাণ মিলেছে। তদন্ত চলাকালীন এর বেশি তথ্য এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’ সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, আদালত আগে স্ট্যাটাস রিপোর্ট খতিয়ে দেখতে চায়। একইসঙ্গে তিনি সলিসিটর জেনারেলকে SIT পুনর্গঠনের বিষয়ে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশ দেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘তদন্ত স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ হওয়াই উচিত।’

    আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী দেবদত্ত কামাত জানান, মন্দিরে সোনা-রুপোর সামগ্রী উধাও হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। মন্দির নির্মাণের সময় যাঁরা অনুদান দিয়েছেন, তাঁদের দেওয়া রসিদ ওয়েবসাইটে প্রকাশের দাবি করেন তিনি। তবে প্রধান বিচারপতি এই প্রস্তাবে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘ওয়েবসাইটে সব তথ্য প্রকাশ করা বাস্তবসম্মত নয়। কেউ মিথ্যা দাবি করতেই পারেন যে তিনি অনুদান দিয়েছেন।’

    এর পরেই প্রধান বিচারপতি জানান, এটি সম্ভাব্য অপরাধের তদন্ত-সংক্রান্ত বিষয়। তাই এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেই মনে করে আদালত। উত্তরপ্রদেশ সরকারের দাখিল করা রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে জানিয়ে শুনানি আপাতত মুলতবি রাখা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)