• দিল্লিতে জখম ১১৮ পুলিশকর্মী, ‘শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত...’, মঙ্গলেও সংসদ অভিযানের ইঙ্গিত অভিজিতের
    এই সময় | ২১ জুলাই ২০২৬
  • ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানকে ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজধানী। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে স্পেশাল কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, একাধিক আইপিএস অফিসার-সহ অন্তত ১১৮ জন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন ৬০ জন আন্দোলনকারীও। ৭০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যেই সোমবার গভীর রাতে CJP সুপ্রিমো অভিজিৎ দীপকে বললেন, ‘মঙ্গলবারও সংসদ অভিযান জারি থাকবে।’

    বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার আন্দোলনকারী যন্তর-মন্তরে জড়ো হন। সংসদমুখী রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশও। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংবিধান ক্লাব, প্যাটেল চৌক, শাস্ত্রী ভবন, আরবিআই ভবন এবং সংসদ মার্গ এলাকায় পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    আন্দোলনকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যারিকেড হামলা করেন, পাথর ছোড়েন বলে অভিযোগ করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রায় ১৫-২০টি সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ। শাংগ্রি-লা হোটেলের কাছে এক মহিলা হেড কনস্টেবল মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে চার থেকে পাঁচটি সেলাই করতে হয়েছে। রাজীব চৌক, জনপথ, প্যাটেল চৌক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ-সহ দিল্লি মেট্রোর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন দীর্ঘক্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হয় পরিষেবা।

    এর মধ্যেই মঙ্গলবারও টানা দ্বিতীয় দিন সংসদ অভিযান কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়ে দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। গভীর রাতে দিল্লির যন্তর মন্তর এবং আশপাশের বিক্ষোভস্থল ঘুরে আন্দোলনকারী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও মিছিল করব। যন্তর মন্তরের এই বিক্ষোভস্থল ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না।’ বৃষ্টির মধ্যেও মানববন্ধনের সামনে দাঁড়িয়ে দলের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে স্লোগান দেন তিনি। সাফ বলে দেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পরবর্তী সংসদ অভিযানের রূপরেখা নিয়ে এখনও বৈঠক চলছে। খুব শীঘ্রই দলের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।’

    এ দিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ মূল দাবি মেটার আশ্বাস মেলেনি বলেই সূত্রের খবর। এ দিনের ঘটনার পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে যুববিরোধী প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল অভিযুক্তরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনকারী ছাত্রদের উপরে লাঠিচার্জ করা হচ্ছে। রাহুলের কথায়, ‘এটা কোনও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নয়।’ আন্দোলনকারীদের দাবি ন্যায্য বলেও দাবি করেছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)