• উৎসব, অনুষ্ঠান জীবন থেকে বাদ! দিনে ২০ ঘণ্টা শুধুই কাজ, ৫৯ বছরের ডলি রানা মহিলাদের অনুপ্রেরণা
    News18 বাংলা | ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৫৯ বছর বয়সে যখন মানুষ জীবন থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবেন, ঠিক তখনই নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন হাওড়ার ডলি রানা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে চলা এই নারী কয়েক বছর আগেই সংসার ছেড়ে ব্যবসার হাল ধরেছিলেন, আর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে নিজেই পথে নেমে ছিলেন।

    ৬০ ছুঁই ছুঁই বয়স, সেই বয়সী হাতেই আজ বাসের গেটে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটেন। সারাদিনের ব্যস্ততায় মেলে মাত্র চার ঘণ্টার বিরতি। একটি সাধারণ নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে বাসের মালিক হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নিজের সোনাদানা পর্যন্ত খোয়াতে হয়েছে তাঁকে।

    কঠোর পরিশ্রমে ভর করে একটি পুরনো বাস কিনে পথচলা শুরু হলেও, হঠাৎই তাতে নেমে আসে বিপত্তি। বাসের বয়স ১৫ বছর পার হওয়ায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাতিল হয় পথচলার ছাড়পত্র। তারপর কোনা হাইরোড থেকে ধর্মতলা রুটে তাঁর বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আচমকাই যেন স্বপ্নের চাকা থেমে যায়।

    তবে বাস থামলেও ডলি রানার স্বপ্ন দেখা থামেনি। একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে বাস কন্ডাক্টর হয়ে ওঠা এই নারী পিছু হটতে শেখেননি। ৫৯ বছর বয়সেও অবসরের বদলে তিনি দেখছেন নতুনের আলো। পুরনো বাসের অধ্যায় পেরিয়ে এবার একটি থেকে বাসের মালিক। এবার একাধিক বাসের মালিক হওয়ার লক্ষ্যে অদম্য উদ্যমে এগিয়ে চলছেন তিনি। আত্মীয়স্বজনের নিমন্ত্রণ রক্ষা বা উৎসবের আনন্দ দূরে সরিয়ে ভোর হতেই চালক ও হেল্পারকে নিয়ে প্রতিদিন বেরিয়ে পড়েন রাস্তায়।

    ডলি রানা বলেন, ‘জীবন মানে থেমে থাকা নয়, জীবন মানে নিরন্তর লড়াই।’ যতদিন শরীরে শক্তি থাকবে, ততদিন পর্যন্ত রাস্তায় থাকার অঙ্গীকার তাঁর। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজের লক্ষ্যপূরণের যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা আজ অনেকের কাছেই এক অদম্য অনুপ্রেরণা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)