ভারত-আমেরিকার প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রতিবাদে মহাপঞ্চায়েতের ডাক দিয়েছে দেশ বাঁচাও মোর্চা। মঙ্গলবার দিল্লির কিষাণ ঘাটে বসবে মহাপঞ্চায়েত। তাতে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই পাঞ্জাব থেকে রওনা দিয়েছেন হাজার হাজার কৃষকরা। দেশজুড়ে প্রায় ৫৫০টি কৃষক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে বলে দাবি আয়োজকদের।
দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে বিয়াসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাঞ্জাবের কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির নেতা জার্মানজিৎ সিং বান্দালা বলেন, ‘প্রস্তাবিত এই বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ।’ তাঁর অভিযোগ, ‘আমেরিকার কৃষক ও বড় সংস্থাগুলির স্বার্থ রক্ষার জন্যই এই চুক্তি হচ্ছে। ভারতের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কথা ভাবা হয়নি।’
বান্দালার দাবি, আমেরিকায় হাজার হাজার একর জমিতে চাষ হয়। কৃষকরা বিপুল টাকা সরকারি ভর্তুকি পান। অথচ ভারতে অধিকাংশ কৃষকের জমির পরিমাণ মাত্র দুই থেকে আড়াই একর। সরকারি সাহায্যও তুলনায় অনেক কম। তাঁর আশঙ্কা, ‘এই চুক্তির ফলে আমেরিকা থেকে কম দামে কৃষিপণ্য ভারতে ঢুকবে। ফলে ভারতীয় কৃষকদের পক্ষে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।’
কৃষিক্ষেত্রকে বিদেশি প্রতিযোগিতার হাত থেকে রক্ষার ডাক দিয়েছেন বান্দালা। তাঁর অভিযোগ, ‘কেন্দ্রীয় সরকার আমেরিকার চাপে এই চুক্তি করতে বাধ্য হচ্ছে।’ তাঁর মতে, ‘এর প্রভাব শুধু কৃষিক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ শুধু পঞ্জাব নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষকরা এই মহাপঞ্চায়েতে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে কৃষকদের এই আন্দোলন রুখতে কোমর বাঁধছে দিল্লি পুলিশও। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে। বান্দালা বলেন, ‘প্রশাসন যদি দিল্লিতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়, তা হলে যেখানে আটকানো হবে, সেখানেই শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান-বিক্ষোভ করবেন কৃষকরা।’ প্রস্তাবিত ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল না করলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। বান্দালার কথায়, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।’