মিঠুন ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি
ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে ফুলবাড়ি বিএসএস ক্যাম্পের পাশ দিয়ে কাঁটাতার বরাবর একটি রাস্তা সোজা চলে গিয়েছে রাজগঞ্জ ব্লকের জুম্মাগছের দিকে। সেই রাস্তায় ঢুকে কিছুদূর এগোলেই ডান হাতে চম্পতগছ গ্রাম। স্বাধীনতার পরে কেটে গিয়েছে ৭৮ বছর। এতদিন পরে এই গ্রামের বাসিন্দারা প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পেলেন। এত বছর ধরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের ও পারে বসবাস করতে হতো, এখানকার বাসিন্দাদের। সম্প্রতি তাঁদের কাঁটাতারের এ পারে নিয়ে আসা হয়েছে।
দিন কয়েক আগে এই গ্রামের উপর দিয়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কনভয় ছুটে গিয়েছিল জুম্মাগছে। সেই কারণে গত ১৫ দিন বন্ধ করে রাখা হয়েছিল এই দুই গ্রামে ঢোকার রাস্তা। সোমবার থেকে রাস্তা সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। সোমবার সেই রাস্তা দিয়ে চম্পতগছে গিয়ে পৌঁছে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। এত বছর গ্রামটি ঘেরা ছিল কাঁটাতারে। কিন্তু এ দিন এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, সীমান্ত বদলে গিয়েছে। চম্পতগছের বাসিন্দা বছর মৌলিন নেসা বলেন, 'আমরা আজন্মকাল ভারতীয় হয়েও কাঁটাতারের ও পারে থেকেছি। কিছুদিন আগে বেড়া সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা ভারতের মূল ভূখণ্ডের বাসিন্দা। এই স্বাধীনতা ভীষণ ভালো লাগছে।'
ভারতের বাসিন্দা হয়েও মূল ভূখণ্ডের বাইরে থাকার কারণ হিসেবে গ্রামের যুবক মহম্মদ কাসিম বলেন, 'আমাদের পূর্বপুরুষরা দেশভাগের আগে থেকেই এখানে রয়েছেন। দেশভাগের সময় হয়তো জমি-জটের কারণে আমাদের গ্রামটি নো-ম্যানস ল্যান্ডে পড়ে যায়। সেই থেকে আমাদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রিত ছিল।' বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, তাঁদের দৈনন্দিন কাজ সবটাই ভারতে। নিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপনের জন্য কর্মসংস্থান, বিয়ে, অন্যান্য অনুষ্ঠানে ভোগান্তি পোহাতে হতো শতাধিক বাসিন্দার।
সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামের প্রধান রাস্তায় আসতে হলে সরকার-প্রদত্ত নথি জমা রাখতে হতো বিএসএফের কাছে। সকাল ন'টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত ভারতের মূল ভূখণ্ডে আসা-যাওয়ার অনুমতি ছিল তাঁদের। কিন্তু এখন আর সে সব সমস্যা নেই। ওই গ্রামের বাসিন্দাদের ভোট দিতে যেতে হয় ফুলবাড়ির আমাইদিঘি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ বার থেকে কষ্টের জীবনে ইতি পড়ায় খুশি বাসিন্দারা। তবে এতদিন সমস্যা থাকলেও বিএসএফের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তাঁরা। গ্রামবাসীরা জানান, রাতে কেউ অসুস্থ হলে বিএসএফকে জানালে জওয়ানরা অ্যাম্বুল্যান্স অথবা আধিকারিকদের গাড়ি নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছে দেন। গ্রামের লোকেদের আত্মীয় এলেও বিএসএফ জওয়ানরা নাম-ঠিকানা জেনে নিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেন।