এই সময়, শিলিগুড়ি: তিব্বতের বুক চিরে রেলপথ নাথুলায় টেনে নিয়ে এসেছে চিন। বসে নেই ভারতও। শিলিগুড়ির সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার রেলপথ তৈরির কাজ শেষের পথে। আগামী বছরই ওই রেলপথ চালুর সম্ভাবনা। রংপো থেকে ওই রেলপথ চলে যাবে সোজা নাথুলা। তবে চিনকে এক ধাপ পিছনে ফেলে আরও একটি রেলপথ তৈরিতে উদ্যোগী হলো ভারত।
ডুয়ার্সের খুনিয়া মোড় থেকে জলঢাকা হয়ে ভারত-চিন সীমান্তের ডোকলাম লাগোয়া জুলুক পর্যন্ত রেলপথ তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছে ভারতীয় রেল। তার প্রথম পর্যায়ে খুনিয়া মোড় থেকে জলঢাকা পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার রেলপথের অনুমোদন দিয়েছে রেল মন্ত্রক। এর জন্য ব্যয় হবে প্রায় ২৭২ কোটি টাকা। সোমবার দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত বলেন, 'প্রস্তাবিত রেলপথ ভারত-চিন-ভুটান সংযোগস্থলে গিয়ে শেষ হবে। এই রেলপথ তৈরির পিছনে হয়তো নানা কারণ থাকতে পারে। তবে সাংসদ হিসেবে আমি মনে করি, পিছিয়ে পড়া এই এলাকার এ বার প্রভূত উন্নয়ন হবে। পর্যটনেরও বিকাশ হবে।'
রেলপথ তৈরি হলে পর্যটনের বিকাশের কথা বলছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরাও। জলঢাকা, বিন্দু, তোদে-তাংদায় প্রচুর হোমস্টে তৈরি হলেও যাতায়াতের সমস্যার জেরে এই এলাকার পর্যটন এখনও সে ভাবে বিকশিত হয়নি। এই এলাকার কৃষি এবং ফুলচাষও মূলত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি না-হওয়ায় বিকশিত হতে পারেনি। জলঢাকা থেকে জুলুক পর্যন্ত রেলপথ তৈরি হলে রেলপথে গ্যাংটকে যাওয়ার বিকল্প রাস্তাও তৈরি হবে।
যদিও ভারতের মূল লক্ষ্য নাথুলা পর্যন্ত ভারত-চিন সীমান্তে অস্ত্র ও রসদের সরবরাহ নিশ্ছিদ্র করা। খুনিয়া মোড় থেকেই ইতিমধ্যেই একটি সড়কপথ (৭১৭ বি) তৈরি হয়েছে, যেটি গৌরীবাস পর্যন্ত গিয়েছে। এই সড়কটিও পর্যায়ক্রমে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে জুলুকেই। জুলুক থেকে নাথুলায় পৌঁছনোর রাস্তা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে নাথুলার পথে চিনের সঙ্গে যুঝবার জন্য ভারতের হাত আরও শক্ত করবে এই নয়া রেলপথ।
রেল সূত্রে খবর, আপাতত প্রস্তাবিত রেলপথের ডিপিআর তৈরি হচ্ছে। তার পরেই কাজ শুরু হবে। খুনিয়া মোড় থেকে জলঢাকা পর্যন্ত এই রেলপথের কাজ সেবক-রংপোর চেয়ে দ্রুত শেষ হবে। ২০১০-এ অনুমোদন পাওয়া সেবক-রংপো রেলপথের কাজ চালু করতেই প্রায় আট বছর লেগে যায়। তার উপরে ওই প্রকল্পের প্রায় ৪৫ কিমি পথই পাহাড় কেটে টানেল তৈরি করে করা হয়েছে।
কিন্তু নতুন এই রেলপথ তৈরি করতে গেলে মাত্র কয়েক কিমি পাহাড়ি পথে টানেল তৈরি করতে হবে। কারণ, খুনিয়া মোড় থেকে গৌরীবাস পর্যন্ত সমতল এলাকা। বিস্ত বলেন, 'খুনিয়া মোড় থেকে সমতলের অংশটি বন দপ্তরের জমি। বর্ষার পরে সেখানে রেল ও বন দপ্তর যৌথ সমীক্ষা শুরু করবে।'