দিল্লি-পাঞ্জাব সীমানায় শম্ভু বর্ডার বন্ধ করে দিল সরকার। কিন্তু কেন বন্ধ করা এই বর্ডার? পাঞ্জাবের ‘কিষান মজদুর সংঘর্ষ কমিটি’র তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দিল্লিতে তারা একদিনের ‘মহাপঞ্চায়েত’ আয়োজন করবে। মূলত ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি রদ করার জন্যেই এই ‘মহাপঞ্চায়েত’-এর আয়োজন।
কৃষকদের দাবি, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি সই হলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই সেই ক্ষতির আশঙ্কায় প্রস্তাবিত চুক্তি সই রদ করতেই তাঁদের এই আন্দোলন। মঙ্গলবার দিল্লির রাজঘাট এলাকায় এই আন্দোলন হওয়ার কথা। তাই পাঞ্জাব থেকে কৃষকরা যাতে পৌঁছতে না পারেন, সেই কারণে সিমেন্টের স্ল্যাব দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শম্ভু বর্ডার।
পাঞ্জাবের কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির নেতা জার্মানজিৎ সিং বান্দালা বলেন, ‘প্রস্তাবিত এই বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ।’ তাঁর অভিযোগ, ‘আমেরিকার কৃষক ও বড় সংস্থাগুলির স্বার্থ রক্ষার জন্যই এই চুক্তি হচ্ছে। ভারতের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কথা ভাবা হয়নি।’
জার্মানজিৎ সিং বান্দালা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তির বিরোধিতা করে পাঞ্জাব, হিমাচল, হরিয়ানা এবং রাজস্থানের কৃষকরা একত্রিত হয়েছেন। ২১ জুলাই যদি কৃষকদের বাধা দেয় সরকার, তবে তাঁরা রাস্তাতেই শান্তিপূর্ণ মিছিল করবেন বলে জানিয়েছেন বান্দালা। তাঁর সংযোজন, এই মহাপঞ্চায়েত ‘সবে শুরু’। যদি কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের দাবি মেনে প্রস্তাবিত চুক্তি বাতিল না করে, তা হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বান্দালা।
‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ছত্রছায়ায় দেশের অন্তত ৫৫০টি কৃষক সংগঠন একত্রিত হয়ে এই আন্দোলনে নেমেছে। দিল্লিতে আন্দোলন শুরুর আগে ‘কিষান মজদুর মোর্চা’ নামে একটি সংগঠনের নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের জানিয়েছেন, এই চুক্তি সই হলে দেশের কৃষি, শিল্প, ডেয়ারি, ই-কমার্স ক্ষেত্রগুলিও ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেই কারণে সরকারের কাছে এই চুক্তি দ্রুত রদ করার দাবি জানিয়েছেন সারওয়ান।