• সিকিমে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস নেমে মৃত অন্তত ৭, আটকে অনেকে
    এই সময় | ২১ জুলাই ২০২৬
  • সিকিমে বড়সড় দুর্ঘটনা। কী ঘটেছে সেখানে? জানা গিয়েছে, সিকিমের নামচি জেলার সামারদুংয়ে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে বড়সড় ধস নেমে অন্তত সাত শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ধসের জেরে ভূগর্ভস্থ মিথেন গ্যাস লিক করায় ব্যাহত উদ্ধারকাজ। এখনও আটকে রয়েছেন অনেক শ্রমিক। সোমবার বিকেলে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশাসন, পুলিশ, দমকল, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থার যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।

    মঙ্গলবার সকালে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ধস নামার কারণে সুড়ঙ্গের ভিতরে মিথেন গ্যাস লিক করেছে। যার জন্য দ্রুত উদ্ধাকাজ করা যাচ্ছে না। সূত্রের খবর, ওই সুড়ঙ্গ তৈরির কাজে নিযুক্ত অনেক শ্রমিক এখনও আটকে রয়েছেন। মিথেন গ্যাস লিক করায় উদ্ধারকারী দলের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতেও রাতভর উদ্ধার কাজ চালিয়ে সাতটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    NHPC-র স্টেজ সিক্স প্রকল্পে সিকিমের পাকিয়াংয়ের সামডুঙ এলাকায় টানেল নির্মাণ সূত্রের খবর, সোমবার বিকেলে সিকিমের পাকিয়ং এলাকায় রাস্তার কাজের জন্যে টানেল তৈরি করা হচ্ছিল। ওই সময় আচমকা টানেলের ভিতরে ধস নামে। গাড়ি, খননযন্ত্র-সহ আটকে পড়েন শ্রমিকরা। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পাকিয়াং পুলিশ দ্রুত টানেলে ঢুকে ১৬ জনকে উদ্ধার করে এবং হাসপাতালে পৌঁছয়। এর পরে ওই ধসের কারণেই ভূগর্ভস্থ মিথেন গ্যাস লিক হতে শুরু করে। ওই সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মিথেন গ্যাস জমেছিল বলে জানা গিয়েছে। ঠিক কত জন আটকে আছেন তা নিশ্চিত নন প্রশাসনের আধিকারিকরা। তবে সূত্রের খবর, কমপক্ষে ২৭ জন শ্রমিকের আটকে থাকার আশঙ্কা।

    প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুরের দিকে সুড়ঙ্গের বাইরে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। বিপুল পরিমাণ পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সুড়ঙ্গের মুখ ঢেকে দেয়। সেই সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে কর্মরত বহু শ্রমিক বেরিয়ে আসতে পারেননি। ফলে তাঁদের আটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, ধসের পরে সুড়ঙ্গের ভিতরে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস জমে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাই ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ধাপে ধাপে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রথমে সুড়ঙ্গের ভিতরের বাতাসের গুণমান পরীক্ষা করা হচ্ছে, তার পরে উদ্ধারকারী দলকে ভিতরে পাঠানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

    স্থানীয় প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ঘটনাস্থলে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স, চিকিৎসক দল এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য সব ব্যবস্থা তৈরি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকাটি ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রবেশও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

    প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় বারবার ধস নামায় উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরাতে একাধিক এক্সকাভেটর ও ভারী যন্ত্র ব্যবহার করা হলেও নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা থাকায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

    এখনও পর্যন্ত আটকে পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের নিরাপদে বের করে আনাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাহিনী ও সরঞ্জাম পাঠানো হবে।

    উত্তর: সিকিমের নামচি জেলায় নির্মীয়মাণ একটি সড়ক সুড়ঙ্গে এই ধসের ঘটনা ঘটেছে।

    উত্তর: প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২৭ জন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    উত্তর: NDRF, পুলিশ, দমকল, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

    উত্তর: সুড়ঙ্গের ভিতরে সম্ভাব্য Gas Leak এবং প্রবল বৃষ্টির কারণে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা উদ্ধারকাজকে জটিল করে তুলেছে।

    উত্তর: এখনও পর্যন্ত আটকে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারী দল তাঁদের নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    উত্তর: ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুল্যান্স, চিকিৎসক দল, জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা এবং ভারী যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)