• ২১ জুলাইয়ে যোগ দিতে এসে বিভ্রান্ত তৃণমূল কর্মীরাই
    আজকাল | ২১ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দূরত্বটা প্রায় দু’কিলোমিটারের মতো। এইটুকু জায়গার মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দু’দুটো ২১ জুলাইয়ের সভা। মেয়ো রোডে সমাবেশের আয়োজন করেছেন বিদ্রোহী তৃণমূলের ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে শহিদ দিবসের সমাবেশ রয়েছে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূলের।

    কিন্তু একই দলের দুটো সভা হওয়ার কারণে আখেরে বিভ্রান্তির শিকার হতে হচ্ছে তৃণমূল কর্মীদেরই। যেহেতু, দুটি সমাবেশ একই প্রতীকে যাঁরা দলের কর্মী তাঁদের অনেকেই বুঝতে পারছেন না কোন সভায় যাবেন।

    মেয়ো রোডে ঋতব্রত ব্যানার্জির শহিদ দিবসে এসে এক তৃণমূল কর্মীর বক্তব্য, ‘এটা এমনি দেখতে এসেছিলাম। তারামণ্ডলের সভাতেই যাব।’ অন্য আর এক তৃণমূল কর্মীর কথায়, প্রতীক যেহেতু এক, সে কারণে দুই সমাবেশেই যোগ দেবেন তিনি।’

    অন্যদিকে, সোমবার রাতে কালীঘাট তৃণমূলের সভামঞ্চ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, সভাস্থলের চেয়ার ভাঙচুর করা হয়, ছিঁড়ে ফেলা হয় ফ্লেক্স,পোস্টার। ঘটনার পর, ফের, রাতেই সভামঞ্চস্থলে গেলেন মমতা। সঙ্গী দোলা, কল্যাণ, ডেরেক।

    সভামঞ্চের কাছে পৌঁছন অভিষেক ব্যানার্জিও। কল্যাণ ব্যানার্জি ঘটনাস্থলে পৌঁছেই, ফেসবুক লাইভ করে পরিস্থিতি দেখানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগ করেন ভাঙচুরের। তারপরেই ঘটনাপ্রসঙ্গে বলতে শুরু করেন খোদ মমতা ব্যানার্জি।

    তিনি শুরুতেই জানান, ভাঙচুরের খবর পেয়েই, তিনি তৎক্ষণাৎ ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। জানান, ‘মঞ্চ ভাঙা হচ্ছে। মাইকের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছিল।’

    মধ্যরাতে সভামঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষুব্ধ মমতা মনে করালেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরেই সভার আয়োজন করছেন তাঁরা, একইসঙ্গে ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে, নিশানা করলেন গেরুয়া শিবিরকেও।

    পুলিশি নিষ্ক্রিয়তারও অভিযোগ তুলেছেন মমতা। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। সাফ জানান, কল্যাণ ব্যানার্জি এবং সঙ্গে তিনি নিজেও, যাবেন আদালতে।

    তৃণমূলের একুশে জুলাই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, অন্যান্য বছরে, একুশে জুলাইয়ের আগে থেকেই, জেলা থেকে কাতারে কাতারে কর্মী-সমর্থকরা আসতেন। একাধিক জায়গায় তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হত।

    এবার আড়ম্বর নেই অতটা। সীমিত লোকসংখ্যার কথা জানিয়েছে আদালতও। মমতা ব্যানার্জি বিকেলে সভাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, তাঁদের সভা-মিছিল করতে দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ, তাঁর সভাস্থলের কাছে, কোনও নিরাপত্তা নেই, নেই পুলিশ।

    অভিযোগ, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বৈঠকের অনুমতি মিললেও, মিলছে না মমতা ব্যানার্জির বৈঠকের অনুমতি। তাঁর সভায় আসা কর্মী সমর্থকরা শহরে থাকার জায়গা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। বলছেন ‘তবুও তাঁরা এসেছেন প্রাণের টানে-হৃদয়ের টানে।’
  • Link to this news (আজকাল)