• বাংলা বাধ্যতামূলক করা আসলে ভাষার মর্যাদা রক্ষা! রাজ্য সরকারের ঘোষণায় উচ্ছ্বাস রবিভূমে
    প্রতিদিন | ২১ জুলাই ২০২৬
  • বাংলা ভাষার মর্যাদা, ব্যবহার ও চর্চাকে আরও সুদৃঢ় করতে রাজ্য সরকারের ঘোষণায় উচ্ছ্বাসের আবহ তৈরি হয়েছে রবিভূম শান্তিনিকেতনে। প্রবীণ আশ্রমিক, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিপ্রেমীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বাংলা ভাষার ব্যবহারকে আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। ঠাকুর পরিবারের সদস্য তথা প্রবীণ আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বাংলা ভাষার ব্যবহার ও চর্চার পাশাপাশি তার মর্যাদা রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

    শান্তিনিকেতনের বাসিন্দাদের মত, বাংলা কেবল একটি ভাষা নয়। এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বাহক। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার অগ্রাধিকার সেই সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও সুদৃঢ় করবে। বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজকলি সেন বলেন, ‘‘মাতৃভাষায় প্রশাসনিক পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে সরকারকে আরও সহজলভ্য করে তুলবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষার ব্যবহার ও চর্চাও বৃদ্ধি পাবে।” বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবু তালেব খান বলেন, ‘‘বর্তমানে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় বাংলা ভাষার জ্ঞান বাধ্যতামূলক। আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদেরও বাংলা জানতে হয়। ফলে সরকারি কাজে বাংলা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীরাও উপকৃত হবেন।”

    শিক্ষাবিদদের মতে, সরকারি নথিপত্র, চাকরির বিজ্ঞপ্তি এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন স্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ ভাষার প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। তবে এর পাশাপাশি বাংলা ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার, নিয়মিত চর্চা এবং ভাষার মান বজায় রাখার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রবীণ আশ্রমিক সুব্রত সেন মজুমদার বলেন, “বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে এক অনন্য সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছে।” যে ভাষায় রবীন্দ্রনাথ বিশ্বকে চিনিয়েছেন বাংলাকে। সেই ভাষার মর্যাদা রক্ষা করাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব, বলছেন শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিকরা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)