সৌভিক-তৃষার সম্পর্কের মাঝে এসেছিল তৃতীয় কেউ? সেই নিয়েই দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য? নাকি সম্পর্কের এমন পরিণতি, যা আত্মসম্মানে আঘাত হানে, যার জেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হল! কী এমন হয়েছিল দু’জনের মধ্যে, যার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিলেন দু’জনে, জানার চেষ্টা চালাচ্ছে তদন্তকারীরা।
সৌভিক-তৃষা দু’জনে যে লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন, তা জানতেন আবাসনের মালিক থেকে দুই পরিবারের সকলেই। তবে ঘটনার দিন সৌভিকই বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান আত্মহত্যা করেছে তৃষা, যা শুনে বিন্দুমাত্র দেরী না করে ছুটে এসেছিলেন সুদাম মাইতি। তিনিই প্রথম পুলিশে খবর দেন। নিউটাউনের চণ্ডীবেড়িয়ায় লিভ-ইন যুগলের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় ক্রমেই সামনে আসছে নতুন তথ্য। মৃত তরুণী তৃষা সাহার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পাশাপাশি রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁর সঙ্গী সৌভিক রায়কে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৌভিকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক দিক খতিয়ে দেখছে নিউটাউন থানার পুলিশ।
ফ্ল্যাটের মালিক সুদাম মাইতির দাবি, ঘটনার দিন প্রথমে সৌভিক তাঁকে ফোন করে জানান, “তৃষা আত্মহত্যা করেছে।” খবর পেয়েই তিনি দ্রুত ফ্ল্যাটের দরজার সামনে পৌঁছন। বারবার দরজায় কড়া নাড়লেও কোনও সাড়া মেলেনি। একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা যায়নি। কিছুক্ষণ পর সৌভিক ফের ফোন করলে তিনি আবার দরজার সামনে যান। দরজা খুলতেই তিনি দেখতে পান রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন সৌভিক এবং ঘরের ভিতরে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন তৃষা। পরিস্থিতি বুঝে উঠতে না পেরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন তিনি।
সুদাম মাইতি জানান, “চার-পাঁচ মাস ধরে ফ্ল্যাটে থাকছিলেন দু’জনে। মাসে প্রায় ১১ হাজার টাকা ভাড়া দিতেন। তাঁদের মধ্যে কোনও অশান্তি, ঝগড়া বা বিবাদের কথা কখনও শুনিনি। আবাসনের অন্য বাসিন্দারা কখনও বলেনি।” ভাড়ার চুক্তিপত্র-সহ সমস্ত নথিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যারাকপুরের বাসিন্দা তৃষা সাহা এবং নৈহাটির বাসিন্দা সৌভিক রায় প্রায় চার মাস আগে চণ্ডীবেড়িয়ার ওই ফ্ল্যাটে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। দু’জনেই বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। দুই পরিবারের কাছেও তাঁদের লিভ-ইন সম্পর্কের বিষয়টি জানা ছিল বলেই পুলিশ সূত্রের দাবি।
তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৌভিকের জ্ঞান ফিরলে এবং তাঁর বয়ান রেকর্ড করা গেলে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েনের জেরেই কী তৃষা আত্মহত্যার করল? আর তাতেই দিকবিদিক শূন্য হয়ে সৌভিকও শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করল? পুলিশের গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছে। তবে কী নিয়ে তাদের মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, এখন সেই ঘটনা উদঘাটনেই নজর তদন্তকারীদের।