• সুবর্ণরেখায় তলিয়ে মৃত্যু কিশোরীর, অভিযোগ বেআইনি বালি খাদানের বিরুদ্ধে
    এই সময় | ২১ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়, সাঁকরাইল: শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার গ্রামের মন্দিরে শিবের মাথায় জল ঢেলে স্কুলে যাবে বলে ভেবেছিল বছর পনেরোর প্রিয়াঙ্কা। কিন্তু স্কুল আর যাওয়া হলো না তার। সুবর্ণরেখায় প্রতিবেশীদের সঙ্গে জল আনতে গিয়ে নদীতে নেমে আর উঠল না সে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নদীতে নামতেই তলিয়ে যায় ওই কিশোরী। চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি গ্রামবাসীরা।

    পরে মৎস্যজীবীরা তাকে উদ্ধার করলে তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিশোরীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল ব্লকের দক্ষিণ রগড়া কাঠুয়াপাল নদীঘাটে মৃত প্রিয়াঙ্কা রায়ের বাড়িও ওই এলাকাতেই। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বেআইনি বালি খাদানের জন্য নদীতে যত্রতত্র গভীর খাদ তৈরি হয়েছে। এ দিন সেই খাদে তলিয়ে যায় ওই ছাত্রী।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রিয়াঙ্কা রগড়া হাইস্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ত। প্রিয়াঙ্কার এ ভাবে মৃত্যুতে বাবা দিলীপ রায় ও দাদু বেণুমাধব রায় বলেন, 'বেআইনি বালি খাদানের জন্য আমাদের মেয়েটা চলে গেল। ২০২২-এ কাঠুয়াপাল গ্রাম লাগোয়া সুবর্ণরেখায় বালি খাদান শুরু হলে খাদান বন্ধ করার জন্য প্রতিবাদ করেছিলেন এলাকার মানুষ। কিন্তু স্থানীয় তৃণমূলের নেতারা তাঁদের প্রভাব খাটিয়ে খাদান চালিয়ে যান। বর্তমানে বর্ষায় নদীতে জল বাড়ায় বালি তোলা বন্ধ। তবে কয়েক দিন ধরে নদী থেকে বড় বড় মেশিনের সাহায্যে বিপুল বালি তুলে মজুত করা হয়েছে। এর ফলে নদীতে বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে। যার বলি হচ্ছে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ। এই বালি খাদান অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।'

    সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসন অনুমোদিত ঝাড়গ্রামে ১৭টি বালি খাদান রয়েছে। বিনপুর-১ ব্লকে কংসাবতী নদীতে ছ'টি। সুবর্ণরেখা নদীতে গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকে চারটি এবং গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকে পাঁচটি। নয়াগ্রাম এবং সাঁকরাইল ব্লকে একটি করে বালি খাদান রয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসী কালিপদ রায় বলেন, 'কাঠুয়াপাল মৌজায় তৃণমূলের নেতাদের মদতে বেআইনি ভাবে দিনরাত বালি তোলা চলছিল। এর মধ্যে প্রশাসনেরও একটা অংশের মদত রয়েছে। এখন সরকার বদল হয়েছে। আমাদের একটাই দাবি, বেআইনি বালি খাদান বন্ধ করা হোক। যাতে আর কারও মৃত্যু না হয়।'

    রাজ্যের পালাবদলের আগে বালি খাদানের বিরুদ্ধে গোর ইএিকাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। ভুয়ো ক্যারিং অর্ডার (সিও) তৈরি করে বালি পরিবহণের অভিযোগও সামনে এসেছিল। তারপরেই জেলা পুলিশ বেআইনি বালি খাদানে রাশ টানতে কড়া নজরদারি চালায়। কাঠুয়াপালের বেআইনি বালি খাদান কী ভাবে, কার মদতে চলছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক বালি ব্যবসায়ী বলেন, 'রাস্তায় পুলিশের কড়া চেকিং থাকে। পুলিশ শুধু বালির পরিমাণ এবং সিও দেখে। অনেক বালি ব্যবসায়ী রয়েছে যারা ভুয়ো সিও ব্যবহার করে নদীর বিভিন্ন জায়গা থেকে বেআইনি ভাবে বালি তুলে ব্যবসা করছে। এমনকী অন্য খাদানের সিও এনে বালি তুলছে। এ ভাবে চলতে থাকলে সরকারের রাজস্বের ক্ষতির পাশাপাশি নদীর গতিপথে পরিবর্তন হবে। নদীপাড়ের ভাঙনও বাড়বে।'

  • Link to this news (এই সময়)