২১ জুলাই নিয়ে তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হলো না কেন এত দিন? কেন সেই রিপোর্ট ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল? কলকাতায় মেয়ো রোডের সভা থেকে তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছেন। জানিয়েছেন, ‘রিপোর্টে পুলিশের গুলিতে নিহতদের ২৫ লক্ষ ও আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। অথচ মমতার তৎকালীন সরকার নিহতদের দু’লক্ষ ও আহতদের ১৫ হাজার টাকা দিয়েছে। ঋতব্রত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বলেন, ‘সম্মান জানিয়েই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে চাই, ভাবের ঘরে চুরি কেন? আপনি কেন তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনলেন না? কেন ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হলো তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট? কাদের আড়াল করার চেষ্টা হলো?’
২১ জুলাইয়ের মঞ্চকে রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে পরিণত করা হয়েছিল বলেও মমতা-শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, ‘এত দিন শহিদ পরিবার মঞ্চে জায়গা পেত না। মঞ্চে জায়গা পাননি সাংসদ-বিধায়করা। এ দিকে সিরিয়ালের পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করা কিছু লোকজন মঞ্চ আলো করে বসে থাকত। শহিদ দিবস কোনও রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চ নয়। সিরিয়ালের কলাকুশলীদের মঞ্চে ঠাঁই হয়েছে এতকাল। দলের কর্মীরা ঠাঁই পাননি।’
তৃণমূলের প্রতীক এবং তহবিল কার দখলে থাকবে, তা আপাতত বিচারাধীন বিষয়। ঋতব্রত ঘোষণা করেছেন, দলের তহবিল যদি তাঁদের দখলে আসে, তা হলে প্রতিমাসে শহিদ পরিবারগুলিকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
এ বছর মেয়ো রোডের সভায় যোগ দিতে আসার সময়ে দলের বেশ কিছু কর্মী বিজেপির হাতে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, ‘কৃষ্ণনগর, ব্যারাকপুর, বীরভূমে দলের কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি বিষয়টা। আমাদের কাছে ফোনের রেকর্ডিংও রয়েছে। মহেশতলা থেকে বাসে করে আসার কথা ছিল দলের কর্মীদের। বিজেপির এক নেতা বাস মালিকদের ফোন করে হুমকি দিয়েছে।’
(তথ্য সহায়তা: ইন্দ্রনীল সাহা)