শহিদমঞ্চ থেকে মমতাকেই নিশানা ‘নব্য তৃণমূলী’ ঋতব্রতর
আজকাল | ২১ জুলাই ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতায় এবার তিনভাবে, তিন তিন জায়গায় ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’, ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ ও কংগ্রেস শহিদ দিবস পালন করছে। মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির সামনে কর্মসূচি পালন করছে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবির।
মেয়ো রোডে ঋতব্রত তৃণমূলের সভামঞ্চে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, শিউলি সাহা, অরূপ চক্রবর্তী, অনুব্রত মণ্ডল। উপস্থিত রয়েছেন ঋতব্রত তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান, দেবাশিস কুমার, মদন মিত্র, কৃষ্ণা চক্রবর্তী, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। শহিদ পরিবারগুলির মধ্যে কয়েকটি পরিবারের সদস্যেরা মেয়ো রোডের সভায় গিয়েছেন। রঞ্জিত দাস, মহম্মদ খালেদ, দিলীপ দাস, রতন মণ্ডলের পরিবার ঋতব্রতদের সভায় গিয়েছে।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঋতব্রত ব্যানার্জি বলেন, “শহিদ দিবস রিয়ালিটি শোয়ের মঞ্চ নয়, ক্যাটওয়াকের মঞ্চ নয়। শহিদ পরিবারের লোকের পিছিয়ে থাকবে। কিন্তু এভাবেই হয়ে আসছে। হেভিওয়েট মন্ত্রীরা মঞ্চে জায়গা পাননি। সিরিয়ালের পার্শ্বচরিত্ররা জায়গা পেয়েছিলেন। কর্মীদের জন্য লড়াই করা নেতারা জায়গা পাননি।”
তিনি আরও বলেন, “যে শহিদদের রক্তে ভিত্তি করে ১৫ বছরের সরকার। চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্ট অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ঋতব্রত বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে সবার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছিল। সাক্ষ্যের ভিত্তিতে যে রিপোর্ট তৈরি হল তাকে ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হল। সরকার ভেবেছিল অনেকে বিপদে পড়বেন। কমিশন বলেছিল শহিদদের ২৫ লক্ষ এবং আহতদের ৫ লক্ষ। কিন্তু বাস্তবে ২ লক্ষ এবং ১৫ হাজার। কমিশন গঠন করে রিপোর্ট চেপে দিলে কমিশনের কোনও মানে থাকে না।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে কটাক্ষ করে ঋতব্রত বলেন, “কমিশনের রিপোর্টে নানা প্রশ্ন উঠছে। দিদি কেন আপনি রিপোর্ট প্রকাশ করলেন না। কেন রিপোর্ট রাজ্যের মানুষ জানতে পারলেন না। শহিদদের পরিবার আবেদন করলেই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী টাকা পাবেন। প্রতিমা বিসর্জন দিলে জলে মাটি ধুয়ে যায়, খড় কাঠামো পড়ে থাকে। বাংলার মানুষও সেই কাঠামোটা দেখতে চাইছেন।”
সোমবার বিধানসভায় ২১ জুলাই নিয়ে তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বিচারপতি চ্যাটার্জির সেই রিপোর্ট মেনে শহিদদের নুন্যতম আর্থিক সাহায্য পর্যন্ত দেয়নি তৎকালীন তৃণমূল সরকার। কমিশন সুপারিশে নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫ লক্ষ টাকা দিতে বলেছিল, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস সরকার মাত্র নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ এবং আহতদের পরিবারকে ১৫ হাজার দিয়েছিল। ঋতব্রতও মঙ্গলবার ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতাকেই আক্রমণ করলেন।