এতদিন নির্বাচনের পূর্বে বা নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মমতা দাবি করতেন, ‘২৯৪টি আসনেই আমিই প্রার্থী। আমায় দেখে ভোট দিন।’ বিধানসভা নির্বাচনে হারের পরে পঞ্চায়েত নির্বাচন ছাড়া সামনে কোনও বড় নির্বাচনও নেই। এবার দলকে খোলনলচে পাল্টে একদম নতুন করে তৈরি করার পালা। ইউএসপি সেই মমতা ব্যানার্জিই। পাল্টে যাওয়া সময়ে মমতার ডাক, “আমার চেহারা নিয়ে ৫০ জন ৫০ জায়গায় থাকবে। ধরতে পারবে না।”
কালীঘাট তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ফের স্বমহিমায় ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। এদিনের সভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কালীঘাট তৃণমূলের মঞ্চে ছিলেন অভিষেক ব্যানার্জি, কীর্তি আজাদ, বাবুল সুপ্রিয়, শোভনদেব চ্যাটার্জি, রাজীব কুমার, সাগরিকা ঘোষ, কল্যাণ ব্যানার্জি, প্রতিমা মণ্ডল, বিমান ব্যানার্জি, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, অশোক দেব, গৌতম দেব। এদিনর সভায় থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা করে দিলেন মমতা। তিনি বললেন, “আগামী দিনে বাংলায় জোট করব, ইন্ডিয়া জোট একসঙ্গে চলব। শুরু করলে শেষ করব না।”
এদিনের বক্তব্যের শুরুতেই আগত সকল তৃণমূলকর্মীদের ধন্যবাদ জানান মমতা। এরপরেই বিজেপিকে আক্রমণ করেন তিনি। সভা পণ্ড করতে বিজেপির গুণ্ডারা বিদ্যুতের তার কেটে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। বিজেপিকে তারকাটা পার্টি বলেও কটাক্ষ করেন। বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করার কথা ঘোষণা করেন এদিন মমতা। তিনি বলেন, “এর পর আমি জেলায় জেলায় বেরোব, আটকানোর ক্ষমতা কত আছে দেখতে চাই।”
সকলকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন তিনি। মমতা বলেন, “আমি ভাল আছি, লড়ে নেব আমি। আপনাদের একজোট হতে হবে।” এরপরেই মমতা নবান্ন এবং রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “আমার চেহারা নিয়ে ৫০ জন ৫০ জায়গায় থাকবে। ধরতে পারবে না। সব স্ট্যাটেজি আজ বলব না, আজ থেকে রাস্তায় নাম শুরু হল। এটা চলবে। আমরা আইনত অনুমতি চাইব। রাস্তাই রাস্তা দেখাবে। ভয় পাবেন না। আমি এখনও যা হাঁটি, ব্যায়াম করি, আমার সঙ্গে ওরা কেউ পারবে না।”
বিদ্রোহী তৃণমূল গোষ্ঠীকে নিশানা করে তিনি জানান, প্রতীক ওরা নিয়ে, যদি বিজেপির সঙ্গে মিলে যায়ও, মানুষের প্রতীক নিয়ে লড়াই করবেন। ইন্ডিয়া জোট হয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন এদিন। তিনি বলেন, “আগামী দিনে বাংলায় জোট করব, ইন্ডিয়া জোট একসঙ্গে চলব। শুরু করলে শেষ করব না।”
ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, “সবাই মিলে যদি রাস্তায় নামি, এখান থেকে সবাইকে পালাতে হবে। আজ থেকে পথচলা শুরু হল। এরপর কলকাতা থেকে দিল্লি। জেলা, গ্রাম, কর্মসূচি হবে সব জায়গায়। এখন স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু হয়েছে। জেল গেলে আপনার স্বাধীনতা সংগ্রামী।”