'সবাইকে বলব নোটবুকে লিখে রাখুন,' অভিষেকের গলায় এখনও সেই 'হম্বিতম্বি'
আজ তক | ২১ জুলাই ২০২৬
'পুলিশ যাঁদের অযথা মিথ্যে মামলায় অত্যাচারিত করছে, আমি বলব ধৈর্য ধরুন। একটা ছোট নোটবুক পকেটে রাখবেন। সব লিখে রাখবেন। এই নোটবুকগুলো এক এক করে ঠিক নিয়ে নেব। যাঁরা যে ভাষায় বোঝে, তাঁদের সেই ভাষাতেই উত্তর দেওয়া হবে...', আজ বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে সেই পুরনো আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই বিজেপিকে আক্রমণ করলেন তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের 'সেনাপতি' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
একুশের সভামঞ্চ থেকেই তিনি আবার বিজেপিকে হারানোর ডাকও দিলেন। তিনি বলেন, 'ঘর-বাড়ি ভেঙে দিয়ে, পার্টি অফিস ভেঙে দিয়ে ভাবছে তৃণমূলকে উৎখাত করব। দুর্বল করব। আরে ফুটপাথে থাকব। তোদের বাংলা থেকে হারাব। কথা দিয়ে গেলাম।'
এ দিন প্রথমেই তিনি বিজেপি এবং ঋতব্রত তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, 'বিজেপির সরকার একুশে জুলাই আটকাতে পারলেন? শুভেন্দু অধিকারী একুশে জুলাই আটকাতে পারলেন? অমিত শাহ একুশে জুলাই আটকাতে পারলেন? কলকাতা পুলিশ আটকাতে পারলেন? আজকের এই সমাবেশ প্রমাণ করে দিচ্ছে তৃণমূলের কংগ্রেসের কর্মীদের বিকল্প নেই। মেয়ো রোডে যেই কয়টা লোক রয়েছে, জেসিপি দিয়ে মাটি কোপানোর সময় বেশি লোক হয়। জনতা কোথায়? কর্মী কোথায়? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে, কর্মীরা সেখানে।'
এ দিনের সভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে থাকা বিদ্রোহী তৃণমূলদের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন কালীঘাট তৃণমূলের 'নম্বর সেকেন্ড'। বিদ্রোহী দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, '৫ ওয়াট ১০ ওয়াটের বাল্ব ভাবছে এখন হ্যালোজেন হয়ে গিয়েছি।'
মঙ্গলবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলকে 'গদ্দার' ও 'বালিশ চাটা' বলেও দাবি করলেন অভিষেক। আর এই ধরনের নেতানেত্রীদের মানুষ পছন্দ করেন না বলেও দাবি করলেন তিনি। পাশাপাশি অভিষেক বলেন, 'যাঁরা গিয়েছে আমি নেত্রীকে অনুরোধ করব, দয়াকরে আগামিদিনেও একটাকে ফেরত নেবেন না।'
'আমার বিরুদ্ধে মামলা...
আজকের সভাস্থল থেকেও বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ করছেন অভিষেক। তিনি বলেন, 'তৃণমূল কংগ্রেসকে চমকে ধমকে লাভ নেই। আমার বিরুদ্ধে কত মামলা করেছে। একদিকে ইডি, সিবিআই, সিআইডি, এসটিএফ। গলা যদি কেটে যায়, তাহলেও মৃতদেহর বুক থেকে জয় বাংলা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেরবে।'
যদিও এত কিছুর কালীঘাট তৃণমূল লড়াইতে আস্থা রাখতে বললেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, লড়াইয়ের ময়দানে আবার দেখা হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, 'যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের সিম্বলে জিতে অন্য দলে গিয়েছে, সেই প্রত্যেকটা বিধানসভায় গিয়ে ক্ষমা চেয়ে আসব।'