'মীরা চাইছেন, মমতাকে মেরে বুদ্ধর অসমাপ্ত কাজ শেষ করুক শুভেন্দু,' আক্রমণ কল্যাণের
আজ তক | ২১ জুলাই ২০২৬
শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমেই অভিনন্দন জানিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা। আশা প্রকাশ করেছিলেন, রাজ্যে ফের শিল্প, কর্মসংস্থান আনার বিষয়ে শুভেন্দু প্রয়াস করবেন। এবার এই নিয়ে বুদ্ধ জায়া মীরা ভট্টাচার্যকে তীব্র আক্রমণ করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তৃণমূলের (মমতাপন্থী) লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মীরা ভট্টাচার্যের 'শুভেন্দু স্তুতি' নিয়ে কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, 'তৃণমূলকে শেষ করতে তখন সফল হননি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। এবার শুভেন্দু অধিকারী চেষ্টা করছেন, তৃণমূলকে শেষ করার, মমতাকে শেষ করার। তাই মীরা ভট্টাচার্য বলেছেন, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অসমাপ্ত কাজ শুভেন্দু অধিকারী করবেন। গুলি করবেন, লাঠি চালাবেন, আবার খুন করবেন, আবার ধর্ষণ করবেন, আবার মমতাকে মারবেন। বুদ্ধর সময়ে যা যা হয়নি মীরা ভট্টাচার্য চাইছেন আবার তাই হোক। উনি আশীর্বাদ করছেন। বুদ্ধদেবের অসমাপ্ত কাজ, মমতাকে মেরে শুভেন্দু
শেষ করুন।'
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের সরকারি নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক সৌজন্যের এক উল্লেখযোগ্য নজির হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের কথা জেনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মীরা ভট্টাচার্য নিজেও। বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার ৫৯এ, পাম অ্যাভিনিউয়ের ছোট্ট ফ্ল্যাটেই আগের মতোই সাদামাটা জীবন কাটাচ্ছেন মীরা। জানা যায়, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পরই তৎকালীন রাজ্য সরকার ওই বাসভবনের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করেছিল। মীরা ভট্টাচার্য বলেন, 'বুদ্ধবাবুর মৃত্যুর পরই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল। এখন অবশ্য আমার নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা নেই। তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী যদি আমার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, সেটা আমার পরম সৌভাগ্য।' গত মে মাসে সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শে বিস্তর পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বার্তা হিসেবেই এই পদক্ষেপকে দেখছেন বুদ্ধ জায়া।