জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধিতার বৃহত্তর মঞ্চ হিসেবে ইন্ডিয়া জোট তৈরি হয়েছিল তাঁরই উদ্যোগে। ২০১৯, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে সেই জোট কতটা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছিল, সে বিষয়ে সংশয় থেকেই গিয়েছে। কিন্তু যিনি সব বিরোধী দলকে এক ছাতার নিচে আনার এত বড় উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তৃণমূল সুপ্রিমো সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বারবার ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে সওয়াল করে গিয়েছেন, বারবার একসঙ্গে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন। এবার একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের (21 July Shahid Diwas) মঞ্চ থেকেও ফের সেকথাই বললেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমার কোনও ছুঁৎমার্গ নেই। ইন্ডিয়া জোট নিয়ে একসঙ্গে চলব। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে চাইলে একসঙ্গে আসুন।” কিন্তু একুশের শহিদ স্মরণ মঞ্চ থেকে মমতার এই বার্তা যথেষ্ট সমালোচনার।কারণ, এই জোটে রয়েছে সিপিএমও।
১৯৯৩ সালে ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযানে ঝরেছিল ১৩ জনের রক্ত। তখন শাসনক্ষমতায় ছিল সিপিএম। সেসময়ের স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তর নির্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের মিছিলে গুলি চলেছিল। সেই থেকে সিপিএমই মমতা প্রধান রাজনৈতিক শত্রু। ২০১১ সালে সেই সিপিএমকে দুরমুশ করে রাজ্যের শাসক পদে বসে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কি সেই লাল পার্টি এখন শত্রু থেকে ‘বন্ধু’ হয়ে উঠল? মঙ্গলবার, ২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে তৃণমূলনেত্রীর বার্তায় সেই প্রশ্ন উঠে গেল।
বাম সরকারের প্রাণঘাতী দমনপীড়ন নীতির প্রতিবাদে ফি বছর ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন করে থাকে তৃণমূল কংগ্রেস। এবারও নীতি একই। সেদিনের ১৩ শহিদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। এই মঞ্চে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের জন্য বরাবরের রাজনৈতিক শত্রু সিপিএমের হাত ধরতেও পিছপা হলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! স্পষ্ট বললেন, ‘‘আমার কোনও ছুঁৎমার্গ নেই।” এখানেই প্রশ্ন। যে সিপিএমের বিরুদ্ধে শহিদ পরিবারদের নিয়ে এই স্মরণসভা, সেখান থেকে তাঁর সিপিএমে ‘ছুঁৎমার্গ’ না থাকার বার্তা কি শহিদদের প্রতিই অসম্মান নয়? তাঁদের ন্যায়বিচারের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে না?