বহু বছর পর এবার খোলা আকাশের নিচে শহিদ স্মরণের আয়োজন করেছে কংগ্রেস। বহু কর্মী সেখানে জমায়েতও করেছেন। তবে এদিনের কর্মসূচিতেও স্পষ্ট দলের ফাটল! অধীররঞ্জন চৌধুরী মঞ্চে উঠতেই ‘শুভঙ্কর সরকার (প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি) জিন্দাবাদ স্লোগান’ তুললেন কর্মীরা। যদিও গোটা ব্যাপারটাকে সুন্দরহাতে ম্যানেজ করেছেন অধীর চৌধুরী। কর্মসূচির জন্য দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন শুভঙ্কর সরকারকে।
অধীররঞ্জন চৌধুরীর সঙ্গে শুভঙ্কর সরকারের মতাদর্শগত ও কৌশলগত দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সরকারের কট্টর বিরোধী। এদিকে এক্ষেত্রে শুভঙ্কর সরকার তৃণমূল বিরোধিতার প্রশ্নে বরাবরই নরমপন্থী। বামেদের সঙ্গে সমঝোতা নিয়েও দু’জনের ভিন্ন মত দেখা গিয়েছে। পরবর্তীতে শুভঙ্কর সরকারকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করায় সে দ্বন্দ্ব যে নতুন মাত্রা নিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এদিন শহিদ স্মরণের মঞ্চেই ছিলেন শুভঙ্কর সরকার। অধীর চৌধুরী দুই বিধায়ককে নিয়ে সেখানে পৌঁছতেই শুভঙ্কর সরকার জিন্দাবাদ স্লোগান তোলেন কর্মীদের একাংশ। যদিও এই ভিড় দেখে শুভঙ্করকে দরাজ সার্টিফিকেট দেন অধীর। বলেন, “শহিদ মিনার ছাপিয়ে গিয়েছে। দলের কর্মীদের পুলিশ আসতে দিচ্ছে না। এই পরিস্থিতে শহিদ মিনারে এত বড় জমায়েত কংগ্রেসের কাছে বড় সাফল্য। এ তো সবে ট্রেলার, পরিবর্তন হবেই। পরের লোকসভা থেকে তার ছবি সামনে আসবে।” শহিদ স্মরণের মঞ্চ থেকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লাগাতার আক্রমণ করেন অধীর। এদিন মঞ্চ থেকে শুভঙ্কর সরকার জানান, শহিদ মিনারে আসার পথে ১১ জন জখম হয়ে আর জি কর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদিনই আগামী বছরের কর্মসূচি ঘোষণা করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। জানালেন, ৯ আগষ্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিবাদে টানা পথসভার আয়োজন করা হবে। ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এদিন মঞ্চ থেকে বিগ্রেডে সভার ডাক দিলেন শুভঙ্কর সরকার। জানালেন, ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি দিনে বিগ্রেডে সভা করবে কংগ্রেস। উপস্থিত থাকবেন খোদ রাহুল গান্ধী।
উল্লেখ্য, এদিন মঞ্চ থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করেন জাতীয় যুব কংগ্রেস নেতা উদয় ভানু। তিনি বলেন, ” এখানে বিদ্রোহী তৃণমূলকে বিজেপি নিয়ন্ত্রণ করছে। ওরা বিজেপির বি টিম। অমিত শাহকে আমরা ভয় পাই না। পথে আমরা নামছি, কী হয় দেখে নেবেন।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে দীপা দাশমুন্সি বললেন, “আজ এটাই প্রকৃত শহিদ দিবস। এতদিন শহিদ দিবস ছিল ক্ষমতার প্রকাশ।” এদিনের শহিদ মিনারের জমায়েত যে কংগ্রেসের খানিকটা মনোবল বাড়িয়েছে, তা স্পষ্ট।