শিবির বদল করে মদন মিত্র ও ফিরহাদ হাকিম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই (Abhishek Banerjee) নিশানা করেছিলেন। অভিষেকের ‘দম্ভ’, ‘অহংকার’ প্রবীণদের না মানার জন্যই দল ভেঙেছে, সেই দাবি তুলেছিলেন বিক্ষুব্ধরা। অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে সমান্তরালভাবে দল চালানো হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। এবার ২১ জুলাইয়ের মেয়ো রোডের মঞ্চ থেকেও অভিষেককে নিশানা করলেন মদন মিত্র (Madan Mitra) ও ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। ক্ষমা চাইবার জন্য অভিষেককে ডেডলাইনও দিলেন মদন।
তারামণ্ডলের সভামঞ্চ থেকে ঋতশিবিরকে এদিন তীব্র আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত তৃণমূলকে বেনজির আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “এদের মেরুদণ্ড নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলব, এদের কাউকে ফেরত নেবেন না।” সুর চড়িয়ে বিরোধী শিবিরকে মমতার বার্তা, “বিজেপিতে যান। যত যাবেন খুশি হব। যে স্থান শূন্য হবে, তা পূরণের জন্য আমার ছাত্র, যুব আছে।” প্রায় একই সময়ে মেয়ো রোডের মঞ্চ থেকে অভিষেককেও কটাক্ষ করেছেন মদন ও ফিরহাদ।
এদিন মঞ্চ থেকে অভিষেককে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মদন। অভিষেককে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁকে ধমকে-চমকে লাভ হবে না। ডায়মন্ড হারবার নিয়ে অন্যদের চমকানো গেলেও তাঁকে চমকানো যাবে না। সিপিএম আমলেও তাঁকে ভয় দেখিয়ে কিছু করা যায়নি বলে কটাক্ষ করেছেন মদন। প্রসঙ্গত গতকাল, সোমবারও ফেসবুক লাইভে এসে অভিষেককে আক্রমণ করেছিলেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, “অভিষেক আপনি তো অপরাধী, খুনি! পয়সা নিয়ে খুন করেন, সুপারি কিলার। আপনার অপরাধপ্রবণতা রয়েছে।” এদিন অভিষেককে ক্ষমা চাওয়ার জন্য দুই ঘণ্টা ডেডলাইনও দিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক। তাঁর কথায়, “অভিষেক এক ঘন্টা সময় দিয়েছে। আমি এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে দুই ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। এই মঞ্চে এসে দাঁড়িয়ে স্বীকার কর আমার জন্য তৃণমূলের এই দশা, ক্ষমতা থাকলে স্বীকার কর।”
মমতার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী ফিরহাদ হাকিমও শিবির বদল করে ঋতশিবিরে এসেছেন। এদিন মঞ্চ থেকে ফিরহাদও অভিষেককে নাম না করে নিশানা করেছেন। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র কটাক্ষ করেছেন, যারা লিফটে উঠে রাজনীতি করছেন, আর যারা প্যারাশুটে নামছেন, তাঁদের অস্তিত্ব থাকবে না। শহিদ দিবস রিয়ালিটি শোয়ের মঞ্চ নয়, ক্যাটওয়াকের মঞ্চ নয়, কটাক্ষ ঋতব্রতর। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “দিদি কেন এই তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করলেন না? কী বাধা ছিল?”