২১ শে জুলাইকে ঘিরে একেবারে বহুমুখী রাজনৈতিক কর্মসূচির সাক্ষী বাংলা। একদিকে তারামণ্ডলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে মেয়ো রোডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শহিদ মিনারে সভা করল কংগ্রেস। বদলের বাংলায় অক্সিজেন পাওয়ার চেষ্টা করল তিনদলই। একদিকে বিজেপিকে ঠেকাতে ফের ময়দানে নামার ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের রিপোর্ট কেন চাপা হল? তা নিয়ে সুর চড়ালেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তবে এদিন তাৎপর্যপূর্ণভাবে সবার নজর ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। কারণ রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম বড় কর্মসূচি। তাও আবার ২১ জুলাইয়ের মতো কর্মসূচি। ফলে সেই মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলেন সেদিকে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের।
ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরই থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘর ভেঙে খান-খান। একসময় তাঁর দলের মধ্যমণিরাই আজ তাঁর বিপরীত গোষ্ঠী অর্থাৎ ঋতব্রত শিবিরে। আর তাই এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় প্রথম থেকেই ছিল ঋতব্রত অর্থাৎ আসল ‘তৃণমূল’। কারও নাম না করে নেত্রী ওই শিবিরকেই স্পষ্ট বার্তা দিলেন “বিজেপিতে যান। যত যাবেন খুশি হব। যে স্থান শূন্য হবে, তা পূরণের জন্য আমার ছাত্র, যুব আছে।” এরপরই যোগ করেন, “চোরগুলো বিজেপিতে চলে গিয়েছে। আর ফেরত নেব না। কর্মীরা সবাই আছে।” শুধু তাই নয়, দলের প্রতীক নিয়ে যে টানাটানি চলছে তা নিয়েও বার্তা দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “তুমি প্রতীক কাড়লে, আমি ছাড়ব না। আমাদের প্রতীক কাড়তে পারে না। গায়ের জোরে করছে। আমি সুপ্রিম কোর্ট অবধি যাব। আর নাহলে আমি তোমাদেরও সবটা কেড়ে নেব।”
শুধু তাই নয়, সংগঠনকে ফের মজবুত করার লক্ষ্যে জেলায় যাওয়ার বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তিনি জানান, ”ঘর ছেড়ে বেরতে হবে। রাস্তায় থাকতে হবে। আর তা জেলা, ব্লক থেকে শুরু হবে। আমরা সবাই জেলায় যাব। জেলে যাওয়ার জন্য আমরা তৈরি। কিছু যায় আসে না।” শুধু তাই নয়, দিল্লিতে ককরোচদের আন্দোলনে যাওয়ার কথাও বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ”সমর্থন আগেও ছিল, দরকারে ককরোচের আন্দোলনে আমি নিজেও যাব।”
শুধু তাই নয়, তৃণমূলের দুই শিবিরের লড়াইয়ে ‘অক্সিজেন’ পাওয়ার চেষ্টা চালাল কংগ্রেসও। শহিদ মিনারের মঞ্চ থেকে ‘ব্রিগেড চলো’র ডাক দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতা দিবসের আগে একগুচ্ছ কর্মসূচিও ঘোষণা করলেন তিনি। এদিন প্রদেশ সভাপতির ঘোষণা, আগামী বছর ব্রিগেডে সভা করা হবে। ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটা দিন ঠিক হবে। ব্রিগেড সমাবেশে খোদ রাহুল গান্ধী উপস্থিত থাকবে বলেও ঘোষণা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির। শুধু তাই নয়, আগামী ৯ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নেতাকর্মীদের পথসভা করার ডান দেন প্রদেশ সভাপতি। তিনি জানান, শ্যামাপ্রসাদের বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিবাদ হবে, তারপর ১৫ আগস্ট জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।