মাঝপথে গান থামালেই এবার ৩ বছরের জেল! ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে খুশি বঙ্কিমের পরিবার
News18 বাংলা | ২১ জুলাই ২০২৬
মাঝপথে গান থামালেই এবার ৩ বছরের জেল! ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কড়া আইন আনছে সরকার, খুশি বঙ্কিম-গবেষক থেকে সাহিত্য সম্রাটের পরিবার। স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই অমর মন্ত্র এবার আইনি বর্মে। ফিরছে বঙ্কিমের গৌরব। ‘বন্দে মাতরম’ বিকৃতি রুখতে নয়া বিলকে স্বাগত জানালেন বঙ্কিম- সাহিত্য সম্রাটের পরবর্তী প্রজন্মেরা। পরাধীন ভারতে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কলমে লেখা হয়েছিল ‘বন্দে মাতরম’।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গান প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৭৫ সালের ০৭ নভেম্বর সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গদর্শনে। পরবর্তীকালে, বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর চিরকালীন উপন্যাস আনন্দমঠ-এ অন্তর্ভুক্ত করেন এই গানটি। আনন্দমঠ ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়। এই গানে প্রথম সুর সংযোজন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ২০২৬ সালে এসে বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষের দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়ে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের সেই কালজয়ী সৃষ্টি অবশেষে পেতে চলেছে এক আইনি স্বীকৃতি।
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ সংশোধনী বিল ২০২৬’ যেন বাঙালীর প্রিয় সাহিত্যিকের অমর সৃষ্টির ঋণশোধের এক দৃষ্টান্ত। প্রস্তাবিত এই নতুন আইনে ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে ঘিরে আনা হচ্ছে কঠোর নিয়ম। গান চলাকালীন মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া, বিকৃত করা কিংবা গাইতে বাধা দেওয়ার মতো কাজ করলে এবার হতে পারে হাজতবাস।
বিশিষ্ট বঙ্কিম-গবেষক ডঃ বিজুলি সরকার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, বন্দেমাতরমকে নিয়ে এমন ভাবনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তিনি দাবি করেন, এই আইন অনেক আগেই আনা প্রয়োজন ছিল।কেন্দ্রের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারের আত্মীয় ও পরবর্তী প্রজন্মেরা।
আরও পড়ুন : ‘পকেটে একটা ছোট নোটবুক রাখবেন..,’ কর্মীদের উদ্দেশ্যে ২১শের মঞ্চ থেকে ঝাঁঝাল বার্তা অভিষেকের
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ের ঘরের নাতি সুশান্ত মুখার্জি বলেন, ‘‘আইন কার্যকরী হলে তো ভালোই হয়। এই গানটি সব জায়গায় যদি গাওয়া হয় তা দেশের গর্ব।’’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভাই পূর্ণচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পঞ্চম পুরুষ শান্তনু চট্টোপাধ্যায় এর স্ত্রী বর্ণালি চ্যাটার্জি জানালেন, ‘‘যদি পুরো গানটি গাওয়ার জন্য আইন করা হয় তাহলে আমারা ভীষণ খুশি হব। বহুদিন ধরেই খন্ডিত বন্দেমাতরম গেয়ে আসছি। তাঁকে কখনোই যোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়নি।’’