• কাশীর ধাঁচে বড় সাজবদল, তারকেশ্বরের মতো সুযোগ-সুবিধা! এবার বিশ্বের দরবারে পৌঁছবে নদিয়ার শিবনিবাস
    News18 বাংলা | ২১ জুলাই ২০২৬
  • : নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের মাজদিয়ার ঐতিহাসিক শিবনিবাস মন্দিরকে ঘিরে দীর্ঘদিনের উন্নয়নের দাবি ফের সামনে এল। এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গের অধিষ্ঠান এই শৈবতীর্থে প্রতিবছর লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হলেও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, তারকেশ্বর মন্দিরকে ঘিরে যেভাবে পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়েছে, সেই আদলেই শিবনিবাসের উন্নয়ন হোক। আর এই দাবির মাঝেই শিবনিবাসকে আন্তর্জাতিক মানের ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানালেন কৃষ্ণগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত বিশ্বাস।

    প্রায় আড়াইশো বছরের ইতিহাস বহনকারী শিবনিবাস মন্দির নির্মিত হয় ১৭৫৪ সালে। নদিয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় চূর্ণী নদীর তীরে প্রায় ১২০ ফুট উচ্চতার এই মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ৯ ফুট উচ্চতা ও ২৬ ফুট পরিধির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গকে স্থানীয়রা এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গ বলে দাবি করেন। শুধু ধর্মীয় নয়, বাংলার ঐতিহাসিক ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন হিসেবেও পরিচিত এই মন্দির।

    স্থানীয়দের কথায়, বর্গী আক্রমণের সময় মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় চূর্ণী নদীর ধারের জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে সেই স্থানেই প্রতিষ্ঠা করেন শিবমন্দির। বর্গীদের ইষ্টদেবতা মহাদেব হওয়ায় তাঁদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই মন্দির নির্মাণ হয়েছিল বলে প্রচলিত বিশ্বাস। পরবর্তীকালে ওই অঞ্চলই ‘শিবনিবাস’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। কিন্তু ভক্তের সংখ্যা বাড়লেও সেই হারে বাড়েনি পরিকাঠামো। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত রাস্তা, পানীয় জল, শৌচাগার, বিশ্রামাগার, পার্কিং, আলোকসজ্জা, নিরাপত্তা ও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে শ্রাবণ মাসে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় পুণ্যার্থীদের। তাই শিবনিবাসের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের দাবি তুলেছেন তাঁরা।

    স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শিবনিবাসে এসে পূজা দিয়েছিলেন এবং জলও নিবেদন করেছিলেন। তাই এই ঐতিহাসিক তীর্থক্ষেত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি অবগত। তাঁদের আশা, সরকারের উদ্যোগে শিবনিবাসও আগামী দিনে তারকেশ্বরের মতোই উন্নত ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এদিকে কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সুকান্ত বিশ্বাস জানিয়েছেন, শিবনিবাসের উন্নয়নের বিষয়টি তিনি বিধানসভায় উত্থাপন করেছেন। পাশাপাশি রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “কাশী বিশ্বনাথ কিংবা তারকেশ্বর যেমন আজ দেশের অন্যতম ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র, তেমনই শিবনিবাসকেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তুলতে চাই। পর্যটন দফতরের সহযোগিতায় এখানে আধুনিক পরিকাঠামো, সৌন্দর্যায়ন এবং পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

    ধর্মীয় ঐতিহ্য, ইতিহাস, স্থাপত্য এবং ক্রমবর্ধমান ভক্তসমাগম—সব মিলিয়ে শিবনিবাসকে ঘিরে সম্ভাবনা অপরিসীম বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, পরিকল্পিত সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নদিয়ার এই ঐতিহাসিক শিবক্ষেত্র ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শৈব তীর্থ ও আন্তর্জাতিক মানের ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)