• মাটি খুঁড়তেই বিশালাকার প্রাচীন ইটের গাঁথুনি!বীরভূমের শিব মন্দিরের নিচে লুকানো 'গুপ্ত রাজপ্রাসাদ'
    News18 বাংলা | ২১ জুলাই ২০২৬
  • : ফের চর্চা মহাভারতের যুগের কুন্তীর পুজো দেওয়া সেই মদনেশ্বর শিবকে ঘিরে। সেখানেই মিলেছে হাজার বছরের প্রাচীন নির্মাণের খোঁজ! কী শুনে অবাক হচ্ছেন নিশ্চই? তবে হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন, ঠিক এই মন্দিরের নিচেই মিলেছে প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন নির্মাণ। থাকে থাকে রয়েছে চওড়া ইটের গাঁথুনি। মূল মন্দির থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট নিচে মিলেছে এই গাঁথনির খোঁজ। আর এই বিষয়ে ইতিহাসবিদ অমিয় ঘোষ জানিয়েছেন, দশম এবং দ্বাদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে এই ইটের ব্যবহার হত।

    আর সেই ইটের গাঁথনির খোঁজ মিলল কোটাসুরের মদনেশ্বর শিব মন্দিরের নিচে। কোটাসুর ও বীরচন্দ্রপুরকে কেন্দ্র করে পঞ্চপান্ডবের অজ্ঞাতবাস-সহ বক রাক্ষস বধের গল্প অনেকেরই জানা অনেকেই বিশ্বাস করে আবার অনেকে বিশ্বাস করেন না। তবে এই সবকিছুর মাঝে ফের ইতিহাসের চর্চায় ময়ূরেশ্বরের সেই কোটাসুর গ্রামের মদনেশ্বর শিব মন্দির। সেই মন্দিরে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে গিয়েই গত মাসে উদ্ধার হয় একটি শিবলিঙ্গ। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে খবর ছড়িয়ে পড়তেই মন্দির প্রাঙ্গণে ঢল নামে গ্রামবাসী সহ বহু দূর দূরান্তের ভক্তদের।

    তবে সেই মন্দিরের নিচে আবারও খনন কার্য করার সময় মূল মন্দির থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট নিচে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ মিলল প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন নির্মাণের। বীরভূমের মদনেশ্বর শিব মন্দিরকে সৌন্দার্যায়ন ও সংস্কারের লক্ষ্যে মন্দিরের দক্ষিণ দিকের বেশ কিছুটা অংশ খনন কার্য চালানো হচ্ছে প্রায় এক মাস ধরে। মন্দির কমিটির দাবি শ্রাবণী পূর্ণিমা, শিব রাত্রির জল ঢালা উৎসব-সহ গ্রামের কীর্তন গানের আসরের সময় বহু ভক্তের সমাগম ঘটে এই মদনেশ্বর শিব মন্দিরে। আর ঠিক তখনই ভক্তদের প্রসাদ খাওয়ানোর জায়গা একদম সীমিত হয়ে পড়ে। যে কারণে মন্দিরের দক্ষিণ দিকে সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফুটের একটি চাতাল তৈরি করা হবে। ঠিক সেই কারণেই খনন কার্য করা হচ্ছে। এই খনন কার্য চলাকালীন জুন মাসে উদ্ধার হয়েছিল একটি শিবলিঙ্গ। তারপর আবারও লোকোমুখের চর্চায় উঠে এসেছে এই মন্দির।

    মাটির ঠিক ২০ ফুট গভীরেও খোঁজ মিলল প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন নির্মাণ।

    মন্দির কমিটির সদস্য পরেশ ভাণ্ডারী বলেন, “এই মন্দির সংস্কারের নেমে আমরা মাটি খনন করে প্রথমে শিব লিঙ্গ খুঁজে পাই। আবার এখন দেখছি মাটির প্রায় ২০ ফুট নিচে সাধারণ ইটের থেকে প্রায় তিনগুণ বড় ইটের নির্মাণ। এমনকি ইটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ ইঞ্চি প্রস্থ সাড়ে ১০ ইঞ্চি। তবে উচ্চতা সাধারণ ইটের থেকে কম প্রায় ২ ইঞ্চি। এটা থেকে আমাদের যেটা মনে হচ্ছে মূল মন্দিরটা মন্দির নয় এর নিচেও কোন বড় মন্দির বা কোনও নির্মাণ ছিল। হয়ত আরও খনন করলে গভীরে আরও পাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও তার দাবি “শুধু মন্দিরের তলেই নয়। ওই এলাকায় বিভিন্ন সময়ে নির্মাণের জন্য মাটি খনন করতে গিয়ে দেখা গেছে কখনও বেরিয়েছে প্রাচীন নির্মাণ, কখনও বেরিয়েছে প্রাচীন কুয়ো। এমনকি প্রায় ৪০ বছর আগে বিশ্বভারতী থেকে বিশেষজ্ঞরা এসে এই প্রাচীন নির্মাণের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন। কথিত আছে বহু বছর আগে কোন রাজার রাজধানী ছিল এই জায়গাতে। যে রাজধানী এখনও হয়ত মাটির তলে তলিয়ে গিয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে আমাদের অনুরোধ আপনারা এসে এই ইতিহাসকে উন্মোচন করুন।”
  • Link to this news (News18 বাংলা)