ছেলের নিথর দেহ আনতে অ্যাম্বুল্যান্সের সামনে দাঁড়িয়ে মা! একটু ভাল থাকার আশায়, বেশি উপার্জনের আশায় এখানে যাওয়াই যেন হল কাল! সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে অ্যাম্বুল্যান্স, এলাকায় খালি বহু মায়ের কোল! কাজের খোঁজে গিয়ে এই পরিণতি! কাজের খোঁজে বেরিয়ে ঘরে ফেরা আর হল না, হল না ভাল থাকা। সিকিমে NHPC টানেল ধসে ডুয়ার্সের ৬ জনের মৃত্যু, শোকস্তব্ধ গোটা চা-বলয়! একটু ভাল রোজগারের আশায় সিকিমে পাড়ি দিয়েছিলেন ওঁরা। কিন্তু টানেল ধসে নিমেষেই শেষ সব স্বপ্ন। মাটিয়ালি ব্লকের ৬ শ্রমিকের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে ডুয়ার্স।
দু’মুঠো অন্নের যোগানে, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ভিনরাজ্যে কাজে গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই যাওয়াই যে চিরবিদায় হবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি পরিবার। সিকিমে এনএইচপিসির নির্মীয়মাণ টানেল ধসে মর্মান্তিক মৃত্যু হল ডুয়ার্সের মাটিয়ালি ব্লকের ৬ জন শ্রমিকের। এই খবর এসে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছে বিস্তীর্ণ চা-বলয়।কোথা থেকে কতজনের মৃত্যু? অসমর্থিত সূত্রে এবং স্থানীয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, মৃত ৬ জনের মধ্যে ৩ জনই মাটিয়ালি ব্লকের কিলকোট চা বাগানের বাসিন্দা।
আরও পড়ুনঃ শহিদ পরিবারকে মাসে ১০ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি, ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট নিয়েও মমতাকে নিশানা ঋতব্রতর
কিলকোট চা বাগানের ১১ নম্বর লাইনের বিকেশ্বর ওরাওঁ, গ্যাবরিয়েল টিগ্গা এবং শিবা ওরাওঁ। অন্যদিকে, নাগেশ্বরী চা বাগানের অমিত লাল কোরে। ইংডং চা বাগানের শ্যাম ওরাওঁ। মঙ্গলবার সকালে এই মর্মান্তিক খবর পাওয়ার পরেই কিলকোট চা বাগানের ১১ নম্বর লাইনে মৃতদের বাড়িতে ছুটে যান মাটিয়ালির বিডিও সুমন্ত ভৌমিক এবং মেটেলি থানার আইসি মিংমা লেপচা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও। ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলিকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই মেটেলি থানা ও প্রশাসনের উদ্যোগে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স সিকিমের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। মাটিয়ালি ব্লক থেকে ঠিক কতজন শ্রমিক ওই অভিশপ্ত টানেলে কাজ করতে গিয়েছিলেন, তার তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। ৬ সংখ্যাটি বাড়তেও পারে বলেও প্রাথমিক আশঙ্কা রয়েছে। ঘরের ছেলেদের নিথর দেহের অপেক্ষায় আপাতত প্রহর গুনছে গোটা মাটিয়ালি।